কুয়েতের মার্কিন বিমান ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা, ইজরায়েলের তেল অলিভে ক্লাস্টার বোমা ইরানের

কুয়েতের মার্কিন বিমান ঘাঁটিতে ইরানের ড্রোন ও ব্যালেস্টিক মিশাইল হামলা। ইজরায়েলের তেল অলিভে ক্লাস্টার বোমা নিক্ষেপের দাবি। যুদ্ধ চালাতে ইউক্রেনের সাহায্য চাইল আমেরিকা।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। কুয়েতের মার্কিন বিমান ঘাঁটি লক্ষ্য করে ভয়াবহ ড্রোন ও ব্যালেস্টিক মিশাইল হামলা চালিয়েছে ইরান। একই সঙ্গে ইজরায়েলের তেল অলিভ অঞ্চলেও ক্লাস্টার বোমা ব্যবহার করেছে তেহরান। পাল্টা প্রতিরোধ করতে গিয়ে বিপুল আর্থিক ও সামরিক চাপে পড়েছে আমেরিকা ও ইজরায়েল। পরিস্থিতি এতটাই জটিল যে, যুদ্ধ চালিয়ে যেতে ইউক্রেনের কাছেও সাহায্য চেয়েছে ওয়াশিংটন।

সূত্রের খবর, কুয়েতের আলি আল সালেম মার্কিন বিমান ঘাঁটি লক্ষ্য করে একাধিক ব্যালেস্টিক মিশাইল ও ড্রোন হামলা চালায় ইরান। এই হামলায় ঘাঁটির একাংশে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর মিলেছে। একই সময় ইজরায়েলের তেল অলিভ অঞ্চলেও ক্লাস্টার বোমা নিক্ষেপ করা হয়েছে বলে দাবি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্রের।

এই সংঘাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা সামনে আসছে—যুদ্ধক্ষেত্রে সব সময় সবচেয়ে দামি অস্ত্রই যে সবচেয়ে কার্যকর হবে, তা নয়। তুলনামূলক কম খরচের ড্রোন ও ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেই আমেরিকা ও ইজরায়েলের মতো শক্তিধর সামরিক শক্তিকে কঠিন চাপে ফেলছে ইরান।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই সংঘাতে ব্যাপকভাবে ব্যবহার করছে টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ইন্টারসেপ্টর। প্রতিটি ক্ষেপণাস্ত্রের দাম আনুমানিক ১০ থেকে ৩০ লক্ষ ডলার। বিপরীতে ইরান মাত্র ৬ থেকে ৮ লক্ষ ডলার খরচ করে একটি ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করছে।

আরও বড় সমস্যা হল, একটি ইরানি ব্যালেস্টিক মিশাইলকে প্রতিহত করতে গড়ে ৩ থেকে ৪টি টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করতে হচ্ছে আমেরিকাকে। ফলে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে খরচের এই বিশাল পার্থক্য ওয়াশিংটনের জন্য বড় চাপ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন সামরিক বিশেষজ্ঞরা।

ড্রোন প্রযুক্তির ক্ষেত্রেও একই ছবি দেখা যাচ্ছে। মার্কিন সেনাবাহিনীর ব্যবহৃত MQ-9 Reaper ড্রোন অত্যাধুনিক এবং এর দাম প্রায় ৩ কোটি ডলার। এটি ‘হেলফায়ার’ ক্ষেপণাস্ত্র বহনে সক্ষম। অন্যদিকে ইরান তুলনামূলক অনেক কম খরচে তৈরি ‘শাহেদ’ শ্রেণির কামিকাজে ড্রোন ব্যবহার করছে, যার দাম মাত্র ৬ হাজার ডলার

এই ধরনের সস্তা কিন্তু কার্যকর ড্রোন ও মিশাইল দিয়েই কাতারে মোতায়েন আমেরিকার গুরুত্বপূর্ণ রাডার ব্যবস্থা AN/FPS-132 ধ্বংস করার দাবি করেছে ইরান। প্রায় ১১০ কোটি ডলারের এই রাডার পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন নজরদারি ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান অংশ ছিল, যা প্রায় ৫ হাজার কিলোমিটার দূর থেকে আসা ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করতে সক্ষম।

এছাড়াও জর্ডনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতেও অত্যন্ত নিখুঁতভাবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এই ঘাঁটি পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন সামরিক উপস্থিতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র এবং সেখানে দীর্ঘদিন ধরেই উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের হামলায় আমেরিকার অত্যাধুনিক THAAD (Terminal High Altitude Area Defense) ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এই পরিস্থিতিতে পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত দ্রুত আরও বিস্তৃত আকার নিতে পারে বলে আশঙ্কা আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলের।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত