মধ্যপ্রাচ্যে ফের যুদ্ধের সিঁদুরে মেঘ! ইরানের দিকে বিমানবাহী রণতরী সরাল আমেরিকা, পাল্টা হুঁশিয়ারি তেহরানের

ইরানের কাছে বিমানবাহী রণতরী ও যুদ্ধবিমান মোতায়েন আমেরিকার। পাল্টা হুঁশিয়ারি তেহরানের। মধ্যপ্রাচ্যে ফের বড় যুদ্ধের আশঙ্কা বাড়ছে।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

মনে করা হচ্ছিল মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আশঙ্কা আপাতত কাটছে। কিন্তু সেই ধারণা ভেঙে ফের ঘন হচ্ছে সংঘাতের মেঘ। ইরানের বিরুদ্ধে যে কোনও সময় সামরিক পদক্ষেপ করতে পারে আমেরিকা—এমনই ইঙ্গিত মিলছে ওয়াশিংটনের সাম্প্রতিক তৎপরতায়। মধ্যপ্রাচ্যে বিমানবাহী রণতরী ও আধুনিক যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে মার্কিন সেনা। পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান—হামলা হলে গোটা অঞ্চল জুড়ে ভয়াবহ যুদ্ধ অনিবার্য। আন্তর্জাতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা, সত্যিই কি আর এক যুদ্ধের দিকে এগোচ্ছে বিশ্ব?

বিভিন্ন মার্কিন সংবাদমাধ্যমের দাবি, আমেরিকা তার সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকমকে আরও শক্তিশালী করছে। এই কমান্ডই মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক অভিযানের তত্ত্বাবধান করে। তারই অংশ হিসেবে অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান এফ-১৫ই এবং বিমানবাহী রণতরী USS Abraham Lincoln-কে ইরানের কাছাকাছি এলাকায় নিয়ে আসা হয়েছে। পাশাপাশি জোরদার করা হয়েছে আকাশ প্রতিরক্ষা ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ ব্যবস্থাও।

এই সামরিক তৎপরতার মধ্যেই জানা যাচ্ছে, ইজরায়েল একটি আকস্মিক যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে ফের বারুদের গন্ধ পাচ্ছেন কূটনীতিক ও প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা।

কয়েক সপ্তাহ আগেও পরিস্থিতি ছিল ভিন্ন। সরকারবিরোধী আন্দোলনের জেরে আটশোর বেশি বিদ্রোহীর মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করেও তা স্থগিত করেছিল ইরান। সেই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সুইজারল্যান্ডের ডাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের মঞ্চ থেকেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন যে এই সিদ্ধান্ত স্থায়ী হতে পারে এবং ফলে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ এড়ানো সম্ভব হবে।

কিন্তু পরিস্থিতি দ্রুত বদলাচ্ছে। ইরানের সুপ্রিম লিডার আয়াতোল্লা খামেনেই-এর বিরুদ্ধে চলা বিক্ষোভ দমনে তেহরানের কঠোর ভূমিকার বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। সেই সময়েই ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলে আমেরিকাকে হস্তক্ষেপ করতেই হবে।

বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ডে সাময়িক বিরতি যুদ্ধের আশঙ্কা কিছুটা কমিয়েছিল বলে মনে করছিল কূটনৈতিক মহল। কিন্তু সাম্প্রতিক সামরিক প্রস্তুতি ফের সেই আশঙ্কাকে উসকে দিল। ইরানও স্পষ্ট করে দিয়েছে—কোনও ধরনের হামলা হলে তার পরিণতি হবে মারাত্মক এবং পুরো মধ্যপ্রাচ্য একটি বৃহত্তর সামরিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়বে।

এখনও পর্যন্ত হোয়াইট হাউসের তরফে চূড়ান্ত কোনও সিদ্ধান্তের কথা জানানো না হলেও আন্তর্জাতিক মহলে অনেকেই বলছেন—এই ‘সিঁদুরে মেঘ’ উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন