রাশিয়ার তেল কিনতে ভারতকে অনুমতি, বিশ্বজুড়ে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণ করতে চান ট্রাম্প! কী বললেন?

হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনায় বিশ্ববাজারে তেলের চাপ বাড়ছে। ভারতকে রাশিয়ার তেল কেনায় অস্থায়ী ছাড় দিল আমেরিকা, সঙ্কট হলে হস্তক্ষেপের আশ্বাস ট্রাম্পের।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি ঘিরে বিশ্ব তেলের বাজারে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। ইরান যদি হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয়, তাহলে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের সরবরাহে বড় ধাক্কা লাগতে পারে—এই আশঙ্কার মধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিল মার্কিন প্রশাসন। ভারতসহ কয়েকটি মিত্র দেশকে রাশিয়ার তেল কেনার ক্ষেত্রে অস্থায়ী ছাড় দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, বিশ্ববাজারে তেলের সঙ্কট তৈরি হলে তা মোকাবিলায় আমেরিকা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।

এক সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তরে ট্রাম্প বলেন, “তেলের সঙ্কট যাতে তৈরি না হয়, তার জন্য যা করার দরকার আমি করব। আমাদের দেশের কাছে প্রচুর তেল রয়েছে। পরিস্থিতি দ্রুত স্থিতিশীল হবে বলেই আমি মনে করি।”

গত শুক্রবার একটি সাক্ষাৎকারে মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট জানান, ভারতসহ কয়েকটি মিত্র দেশকে রাশিয়ার তেল কেনার ক্ষেত্রে বিশেষ অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, “ভারত দায়িত্বশীল আচরণ করেছে। আমরা তাদের রাশিয়ার তেল কেনা বন্ধ করতে বলেছিলাম এবং তারা সেই নির্দেশ মেনে চলেছে।”

বর্তমানে দক্ষিণ এশিয়ার সমুদ্রপথে কয়েকশো মিলিয়ন ব্যারেল রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল ভাসমান অবস্থায় রয়েছে। এই তেল দ্রুত বাজারে পৌঁছালে বিশ্ববাজারে সরবরাহ বাড়বে এবং দামের উপর চাপ কিছুটা কমতে পারে বলেই মনে করছে মার্কিন প্রশাসন।

বেসেন্টের কথায়, বিশ্বজুড়ে তেলের ঘাটতি নেই। তবে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সরবরাহে সাময়িক চাপ তৈরি হয়েছে। সেই কারণেই সমুদ্রে থাকা রাশিয়ার তেল বাজারে আনার জন্য অস্থায়ী ছাড় দেওয়া হয়েছে।

এর আগে ইরান–আমেরিকা উত্তেজনার প্রেক্ষিতে ওয়াশিংটন ঘোষণা করেছিল যে ভারতীয় তেল শোধনাগারগুলিকে রাশিয়ার তেল কেনার জন্য ৩০ দিনের বিশেষ অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। তবে এই অনুমতি শুধুমাত্র সেই তেলের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য, যা ৫ মার্চ ২০২৬-এর আগে জাহাজে তোলা হয়েছিল এবং ইতিমধ্যেই সমুদ্রপথে রয়েছে।

মার্কিন প্রশাসনের দাবি, এই অস্থায়ী ছাড়ের ফলে রাশিয়ার বড় কোনও আর্থিক লাভ হবে না। বরং মূল লক্ষ্য হল বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা।

অন্যদিকে ভারত সরকার জানিয়েছে, বর্তমান উত্তেজনার মধ্যেও দেশের জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল রয়েছে। গত কয়েক বছরে ভারত তেল আমদানির উৎসের সংখ্যা ২৭টি দেশ থেকে বাড়িয়ে ৪০টি দেশে নিয়ে গেছে।

কেন্দ্রের বক্তব্য অনুযায়ী, কোনও একটি রুটে সমস্যা দেখা দিলেও বিকল্প পথ থেকে তেল আমদানি সম্ভব। তাই দেশের স্বার্থে ভারত সেই দেশ থেকেই অপরিশোধিত তেল কিনবে, যেখানে সবচেয়ে প্রতিযোগিতামূলক এবং সস্তা দামে তেল পাওয়া যায়।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতেও ভারত রাশিয়ার তেল আমদানি করছে এবং বর্তমানে রাশিয়াই ভারতের সবচেয়ে বড় অপরিশোধিত তেল সরবরাহকারী দেশ।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পরেও গত তিন বছর ধরে ভারত রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কিনে আসছে। বিশেষ করে ২০২২ সালের পর কম দামের কারণে এই আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

এদিকে ফেব্রুয়ারিতে আমেরিকা ভারতের কিছু পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহার করেছিল। তখন ওয়াশিংটনের দাবি ছিল, ভারত রাশিয়ার তেল কেনা কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। যদিও সেই ধরনের কোনও প্রতিশ্রুতি যৌথ বিবৃতিতে উল্লেখ নেই এবং ভারত সরকারও এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু বলেনি।

সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার প্রেক্ষিতে বিশ্ব তেলের বাজারে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। সেই পরিস্থিতিতেই ভারতকে রুশ তেল কেনার ক্ষেত্রে অস্থায়ী ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক জ্বালানি রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত