বকেয়া DA নিয়ে রাজ্যজুড়ে যে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছিল, তার মধ্যেই নতুন আশার আলো দেখছেন শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীরা। সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক নির্দেশ এবং রাজ্য সরকারের আদালতে জমা দেওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে আইনজ্ঞদের একাংশের দাবি—বকেয়া মহার্ঘ ভাতার সুবিধা থেকে শিক্ষক বা শিক্ষাকর্মীদের বাদ দেওয়ার কোনও সুস্পষ্ট আইনি ভিত্তি নেই। ফলে সরকারি কর্মচারীদের মতো তাঁরাও বকেয়া ডিএ পাওয়ার অধিকারী হতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে।
গত ৫ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ‘কর্মচারী’ বা ‘Employees’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছিল। আইনি মহলের মতে, এই শব্দবন্ধটি কেবলমাত্র সচিবালয় বা সরাসরি সরকারি দপ্তরে কর্মরত কর্মীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এমনকি রায়ের বিভিন্ন অংশে পেনশনারদের ক্ষেত্রেও ‘সরকারি কর্মচারী’ শব্দটি আলাদা করে উল্লেখ করা হয়নি।


এই কারণেই আইনজ্ঞদের একাংশের মতে, আদালতের নির্দেশের ব্যাখ্যা করলে বোঝা যায়—এই রায়ের পরিধি অনেকটাই বিস্তৃত এবং বিভিন্ন সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের কর্মীরাও এর আওতায় পড়তে পারেন।
এদিকে ৭ মার্চ রাজ্য সরকার সুপ্রিম কোর্টে একটি মডিফিকেশন আবেদন জমা দেয়। সেখানে কর্মীদের একটি বিস্তারিত পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়েছে। রাজ্যের হিসেব অনুযায়ী সরাসরি সরকারি কর্মচারীর সংখ্যা তিন লক্ষাধিক।
তবে সেই নথিতে শুধু সরকারি কর্মচারীদের তথ্যই নয়, আরও একাধিক ক্ষেত্রের কর্মীদের তথ্যও তুলে ধরা হয়েছে। রাজ্যের জমা দেওয়া হিসেব অনুযায়ী—


-
সরকার পোষিত স্কুল ও কলেজের প্রায় ৩ লক্ষ ৮৮ হাজার শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী
-
পঞ্চায়েত, মিউনিসিপ্যালিটি ও অন্যান্য স্থানীয় সংস্থার প্রায় ৫৩ হাজার কর্মী
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, রাজ্য সরকার আদালতে স্বীকার করেছে যে এই সমস্ত ক্ষেত্রের কর্মীদের একই হারে মহার্ঘ ভাতা (DA) দেওয়া হয়।
আইনজ্ঞদের মতে, যদি বর্তমানে একই হারে ডিএ দেওয়া হয়, তাহলে বকেয়া ডিএ মেটানোর ক্ষেত্রে তাঁদের বাদ দেওয়ার যৌক্তিকতা দেখানো কঠিন হবে।
তবে এখনও পর্যন্ত এ বিষয়ে রাজ্য সরকারের তরফে কোনও চূড়ান্ত সরকারি নির্দেশিকা প্রকাশ করা হয়নি। ফলে বিষয়টি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছতে হলে আরও কিছুটা অপেক্ষা করতে হবে।
এই মুহূর্তে প্রশাসনের তরফে কর্মীদের সার্ভিস বুক ডিজিটাইজ করার জন্য একটি নতুন পোর্টাল তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। এই পোর্টালের মাধ্যমে কর্মীদের সমস্ত তথ্য যাচাই করা হবে বলে জানা গেছে।
এরপর অর্থ দপ্তর বা নবান্ন থেকে আনুষ্ঠানিক নির্দেশিকা প্রকাশ করা হলে বকেয়া ডিএ নিয়ে চূড়ান্ত অবস্থান পরিষ্কার হবে।
ফলে শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী এবং স্থানীয় সংস্থার কর্মীদের জন্য আপাতত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—সরকারি বিজ্ঞপ্তির দিকে নজর রাখা। কারণ কোনও চূড়ান্ত নির্দেশ প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত এই বিষয়ে শেষ সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা সম্ভব নয়।







