ভোটের আগে বড়সড় অস্বস্তিতে তৃণমূল! ২০ দিনের জন্য পশ্চিমবঙ্গে কাজ স্থগিত আইপ্যাকের

ভোটের আগে আইনি জটিলতার জেরে আইপ্যাকের কাজ স্থগিত, ২০ দিনের ছুটিতে কর্মীরা—নির্বাচনী কৌশলে প্রভাব পড়ার আশঙ্কায় রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

ভোটের ঠিক আগে বড়সড় অস্বস্তিতে শাসক শিবির। তৃণমূল কংগ্রেসের নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেওয়া পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাক হঠাৎই পশ্চিমবঙ্গে তাদের সমস্ত কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আইনি বাধ্যবাধকতার কারণ দেখিয়ে কর্মীদের ২০ দিনের ছুটিতে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যা কার্যত ভোটপর্বের সম্পূর্ণ সময়জুড়েই প্রভাব ফেলতে পারে।

সংস্থার অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার গভীর রাতে কর্মীদের কাছে পাঠানো এক ইমেলে এই নির্দেশ দেওয়া হয়। সেখানে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, আইনকে সম্মান জানিয়েই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং পুরো প্রক্রিয়ায় সংস্থা সহযোগিতা করছে। কর্মীদের আশ্বস্ত করে জানানো হয়েছে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পরিস্থিতির সমাধান হবে বলে তারা আশাবাদী। আপাতত ১১ মে-র পর নতুন করে যোগাযোগ করে পরবর্তী কর্মপন্থা ঠিক করা হবে।

এই সিদ্ধান্তের রাজনৈতিক অভিঘাত যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। কারণ, রাজ্যে ২৩ ও ২৯ এপ্রিল দুই দফায় বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে এবং ফল প্রকাশ ৪ মে। অর্থাৎ, আইপ্যাকের ঘোষিত বিরতির সময়সীমা শেষ হতে হতে ভোটপ্রক্রিয়া কার্যত সম্পন্ন হয়ে যাবে। ফলে মাঠপর্যায়ের প্রচার ও কৌশলগত কাজে শূন্যতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

যদিও তৃণমূলের অন্দরমহলের একাংশের দাবি, সংস্থার কিছু অংশ বিকল্প ব্যবস্থায় কাজ চালিয়ে যেতে পারে—হয়তো দূরবর্তী পদ্ধতিতে। তবে রাজ্যের বিভিন্ন বিধানসভা কেন্দ্রে যারা সরাসরি প্রচারে যুক্ত ছিলেন, তাঁদের ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।

শনিবার সল্টলেক সেক্টর ফাইভে আইপ্যাকের দফতরে হঠাৎ কর্মীদের ডেকে পাঠানো হয়। সেই সময়েই অনেকে আঁচ করেছিলেন, বড় কোনও সিদ্ধান্ত আসতে চলেছে। যদিও প্রথমে মনে করা হয়েছিল ভোটের আগে শেষ মুহূর্তের নির্দেশ দেওয়া হবে, কিন্তু তার বদলে কাজ বন্ধের ঘোষণা কর্মীদের একাংশকে বিস্মিত করেছে।

এই প্রেক্ষাপটে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহও যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। এর আগে সংস্থার কলকাতার অফিস এবং কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাসভবনে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) তল্লাশি চালায়। সেই সময় ঘটনাস্থলে পৌঁছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্রীয় সংস্থার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পদক্ষেপের অভিযোগ তোলেন। তাঁর দাবি ছিল, নির্বাচনী কৌশল সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ নথি বাজেয়াপ্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছিল। বিষয়টি পরবর্তীতে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়ায় এবং এখনও বিচারাধীন।

অন্যদিকে, কয়লা দুর্নীতি তদন্তের সূত্রে আইপ্যাকের সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিনেশ চান্দেলকে সম্প্রতি গ্রেফতার করেছে ইডি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সরব হয়ে এটিকে ‘ভয় দেখানোর রাজনীতি’ বলে কটাক্ষ করেন।

এরই মধ্যে রবিবার তারকেশ্বরে মুখ্যমন্ত্রী মমতার প্রথম নির্বাচনী সভা এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার সাগরে অভিষেকের জনসভা রয়েছে। সামনে আরও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আইপ্যাকের কার্যত সরে দাঁড়ানো নির্বাচনী কৌশলে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। প্রকাশ্য মঞ্চে এই ইস্যুতে তৃণমূল নেতৃত্ব কী অবস্থান নেয়, এখন সেদিকেই নজর।

-বিজ্ঞাপন- Shamim Ahamed Ads
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত