আন্তর্জাতিক যোগ দিবসকে ঘিরে এবার বড় স্বীকৃতি পেল কলকাতা। পালাবদলের পর প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উপস্থিতিতে আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের মূল অনুষ্ঠান হতে চলেছে শহর কলকাতায়। আয়ুষ মন্ত্রক সূত্রে খবর, রেড রোড ও সংলগ্ন এলাকাতেই হতে পারে এই মেগা আয়োজন, যেখানে লক্ষাধিক মানুষের অংশগ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে। এই ঘোষণার পর থেকেই প্রশাসনিক স্তরে জোর প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।
বুধবার মধ্যপ্রদেশের খাজুরাহোতে আয়োজিত “যোগ মহোৎসব ২০২৬” অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় আয়ুষ মন্ত্রী প্রতাপরাও যাদব আনুষ্ঠানিকভাবে কলকাতার নাম ঘোষণা করেন। তিনি জানান, ভারতের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও আধ্যাত্মিকতার অন্যতম কেন্দ্র কলকাতাই এবার আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের মূল অনুষ্ঠানের আয়োজক শহর হতে চলেছে।


মন্ত্রী আরও জানান, এবারের যোগ দিবসের মূল থিম রাখা হয়েছে “সুস্থ বার্ধক্যের জন্য যোগ”। কেন্দ্রের লক্ষ্য, যোগব্যায়ামকে আরও বেশি মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অংশ করে তোলা। সেই কারণেই দেশজুড়ে জনঅংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
এর আগেই সোমবার নবান্নে রাজ্যের যোগ জগতের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানেই কলকাতায় মূল অনুষ্ঠান আয়োজনের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন তিনি। কেন্দ্রীয় ঘোষণার পর সেই জল্পনাই কার্যত সত্যি হল।
কলকাতায় আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের মূল অনুষ্ঠান হওয়ায় উচ্ছ্বসিত যোগ জগতের প্রতিনিধিরাও। ক্রীড়াভারতীর প্রদেশ সম্পাদক বিভাস মজুমদার বলেন, “আমরা বহুদিন ধরেই কলকাতায় যোগ দিবসের মূল অনুষ্ঠান করতে চেয়েছিলাম। এবার সেই সুযোগ এল।” অন্যদিকে যোগ দিবস উদযাপন কমিটির সম্পাদক ড. অভিজিৎ ঘোষের মতে, ২১ জুন ২০২৬ কলকাতার জন্য এক ঐতিহাসিক দিন হয়ে থাকবে।


এদিন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ‘যোগ সঙ্গম পোর্টাল’-এর নতুন সংস্করণও উদ্বোধন করেন, যাতে আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের অনলাইন নিবন্ধন আরও সহজ হয়। পাশাপাশি চালু করা হয়েছে ‘যোগ পার্ক পোর্টাল’, যার মাধ্যমে বিভিন্ন রাজ্য ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্থায়ী যোগচর্চার জায়গা তৈরি করা হবে।
অনুষ্ঠানে নতুন ডিজাইনের ‘যোগ টি-শার্ট’ও উন্মোচন করা হয়। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জানান, ‘যোগ ৩৬৫ ক্যাম্পেইন’-এর আওতায় ইতিমধ্যেই দুই লক্ষেরও বেশি মানুষ বিনামূল্যে যোগ প্রশিক্ষণ নিয়ে ‘যোগ মিত্র’ সার্টিফিকেট পেয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উদ্যোগে আয়ুষ মন্ত্রক দেশজুড়ে যোগব্যায়ামকে গণআন্দোলনের রূপ দিতে চাইছে বলেও মন্তব্য করেন প্রতাপরাও যাদব। তাঁর বক্তব্য, যোগ শুধু শরীরচর্চা নয়, সুস্থ জীবনযাপন ও প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবার অন্যতম হাতিয়ার হিসেবেও গুরুত্ব পাচ্ছে।
সব মিলিয়ে, আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের মূল অনুষ্ঠান কলকাতায় আয়োজন শুধু প্রশাসনিক সাফল্য নয়, শহরের সাংস্কৃতিক ও আধ্যাত্মিক পরিচয়েরও বড় স্বীকৃতি বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



