ভাঙড়ে ভোটে হারের পর থেকেই কার্যত আড়ালে চলে গিয়েছিলেন শওকত মোল্লা। এবার তাঁর সমস্ত নিরাপত্তা বলয়ও সরিয়ে নেওয়া হল। যে নেতার নিরাপত্তা নিয়ে একসময় প্রকাশ্যে সরব হয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, নতুন সরকারের আমলে সেই শওকতই এখন নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কায় ভুগছেন বলে ঘনিষ্ঠ মহলে খবর।
একসময়ের দাপুটে তৃণমূল নেতা শওকত মোল্লা ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে ভাঙড় কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। কিন্তু আইএসএফ নেতা নওশাদ সিদ্দিকির কাছে পরাজয়ের পর থেকেই রাজনৈতিকভাবে অনেকটাই কোণঠাসা হয়ে পড়েন তিনি। প্রকাশ্য রাজনৈতিক কর্মসূচিতেও তাঁকে আর দেখা যায়নি।


রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকেই একের পর এক তৃণমূল নেতার অবস্থান বদলাতে শুরু করেছে। কেউ গা ঢাকা দিয়েছেন, কেউ আবার দলের বিরুদ্ধেই ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। সেই তালিকায় এবার নতুন সংযোজন শওকত মোল্লা।
ক্যানিংয়ের এই প্রভাবশালী নেতা একসময় কড়া নিরাপত্তার বলয়ের মধ্যে থাকতেন। সূত্রের খবর, তাঁর জন্য ছিল জেড ক্যাটাগরির নিরাপত্তা ব্যবস্থা। কলকাতা পুলিশ ও জেলা পুলিশের দু’টি পাইলট গাড়ির পাশাপাশি ২৪ জন সশস্ত্র নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন থাকতেন তাঁর নিরাপত্তায়।
তবে বুধবার রাত থেকেই সেই সমস্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। বারুইপুর জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্তমানে শওকত মোল্লা কোনও সাংবিধানিক পদে নেই এবং তিনি বিধায়কও নন। সেই কারণেই আপাতত তাঁর জন্য কোনও বিশেষ নিরাপত্তা বরাদ্দ রাখা হয়নি।


উল্লেখযোগ্যভাবে, নির্বাচনের আগে ভাঙড়ের এক জনসভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, “শওকতের নিরাপত্তা তুলে নেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। প্রয়োজনে আমার নিজের নিরাপত্তারক্ষী দিয়েও ওকে সুরক্ষা দেব।” সেই মন্তব্য সে সময় রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল।
রাজনৈতিক জীবনের শুরুতে শওকত ছিলেন প্রয়াত সিপিএম নেতা ও প্রাক্তন মন্ত্রী আবদুর রেজ্জাক মোল্লার ঘনিষ্ঠ। পরে ২০১১ সালে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন তিনি। এরপর ধাপে ধাপে সংগঠনে গুরুত্ব যেমন বেড়েছে, তেমনই বেড়েছিল তাঁর নিরাপত্তার পরিধিও।
এখন পরিস্থিতি সম্পূর্ণ উল্টো। যাঁরা এতদিন তাঁর নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন, তাঁদের সকলকেই বারুইপুর পুলিশ জেলায় ফেরত পাঠানো হয়েছে। ঘনিষ্ঠ মহলে শওকত মোল্লা নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বলেও জানা যাচ্ছে। রাজনৈতিক পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে বাংলার ক্ষমতার অন্দরে কীভাবে সমীকরণ বদলাচ্ছে, এই ঘটনাই যেন ফের তা স্পষ্ট করে দিল।
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



