‘দলের কারও পছন্দ ছিলাম না’, পদত্যাগের পর বিস্ফোরক সুশান্ত ঘোষ

বরো চেয়ারম্যান পদ থেকে ইস্তফার পর বিস্ফোরক মন্তব্য সুশান্ত ঘোষের। ‘দলের কোনও একজনের পছন্দ ছিলাম না’, মন্তব্যে বাড়ল জল্পনা।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে অস্বস্তি আরও বাড়িয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন সুশান্ত ঘোষ। কলকাতা পুরসভার ১২ নম্বর বরোর চেয়ারম্যান পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার পর তিনি ইঙ্গিতপূর্ণ ভাষায় জানালেন, দলের কোনও এক ব্যক্তির অপছন্দের কারণেই তাঁকে সরে দাঁড়াতে হয়েছে। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে নতুন করে জোর চর্চা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।

বুধবার কলকাতা পুরসভার কমিশনার স্মিতা পাণ্ডের কাছে নিজের ইস্তফাপত্র জমা দেন সুশান্ত ঘোষ। এরপর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, “দলের কোনও একজনের আমি পছন্দ ছিলাম না বলেই হয়তো এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।”

যদিও সেই ‘একজন’-এর নাম তিনি প্রকাশ্যে বলেননি। তবে তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে তৃণমূলের অন্দরে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ও অভ্যন্তরীণ চাপের জল্পনা আরও জোরালো হয়েছে।

সুশান্ত ঘোষ স্পষ্ট জানিয়েছেন, তিনি আপাতত কাউন্সিলর পদে বহাল থাকছেন এবং মানুষের কাজ করে যাবেন। তবে বরো চেয়ারম্যানের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ব্যক্তিগত কারণেই।

রাজনৈতিক মহলের মতে, ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটে ভরাডুবির পর থেকেই তৃণমূলের অন্দরে ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে। একের পর এক নেতা ও পদাধিকারীর ইস্তফা সেই চাপ আরও বাড়িয়ে তুলছে।

এর আগেই ৯ নম্বর বরোর চেয়ারপার্সন দেবলীনা বিশ্বাস পদত্যাগ করে দলকে তোপ দেগেছিলেন। একই দিনে অ্যাকাউন্টস কমিটির দায়িত্ব ছেড়েছেন তৃণমূল কাউন্সিলর অরূপ চক্রবর্তীও। ফলে কলকাতা পুরসভায় ধারাবাহিক পদত্যাগ রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।

কসবার ১০৮ নম্বর ওয়ার্ডের জনপ্রিয় নেতা হিসেবে পরিচিত সুশান্ত ঘোষ দীর্ঘদিন ধরেই এলাকার সংগঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। রাজডাঙা উদয়ন সংঘের পুজোর অন্যতম মুখ হিসেবেও তাঁর পরিচিতি রয়েছে।

প্রায় দুই বছর আগে তাঁর উপর হামলার ঘটনাও শোরগোল ফেলেছিল রাজ্য রাজনীতিতে। সেই সময় তিনি দাবি করেছিলেন, রাজনৈতিক কারণেই তাঁকে টার্গেট করা হয়েছে। এরপরও সক্রিয় রাজনীতিতে থেকে সাংগঠনিক দায়িত্ব সামলেছেন তিনি।

সব মিলিয়ে, পদত্যাগের পর সুশান্ত ঘোষের এই মন্তব্য তৃণমূলের অন্দরের চাপা অসন্তোষকে আরও সামনে এনে দিল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন