নজরবন্দি ব্যুরো: পুজোর আগে কলকাতার বেহাল পিচ রাস্তার হাল ফেরাতে তৎপর পুরসভা। বুধবার শহরের বিভিন্ন বরোয় বিধায়কদের সঙ্গে বৈঠকে বসলেন পুরসভার ইঞ্জিনিয়ার ও আধিকারিকরা। রাস্তা সংস্কার ও সৌন্দর্যায়নের পাশাপাশি জঞ্জাল সাফাই, নিকাশি এবং পার্ক-উদ্যান নিয়েও উঠে এল একাধিক নাগরিক সমস্যা। তবে সময়ের অভাবে বড় মাপের সংস্কারের বদলে ‘জোড়া-তাপ্পি’ দিয়েই কাজ সারার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
প্রতি বছর পুজোর বেশ কয়েক মাস আগে থেকেই রাস্তা সংস্কার নিয়ে বরোস্তরে প্রস্তুতি শুরু হয়। এ বার সেই প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে পুজোর মাত্র ছয় সপ্তাহ আগে। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শহরের প্রতিটি বরোর বেহাল রাস্তা সংস্কার এবং সৌন্দর্যায়নের কাজ শেষ করা কার্যত কঠিন বলেই মনে করছেন পুরসভার ইঞ্জিনিয়াররা।
বুধবার বিভিন্ন বরোয় আয়োজিত বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সংশ্লিষ্ট পুরসভার ইঞ্জিনিয়ার ও আধিকারিকরা। শাসক ও বিরোধী—দুই পক্ষের বিধায়করাই নিজের নিজের বিধানসভা এলাকার সমস্যার তালিকা তুলে ধরেন। অনেক ক্ষেত্রেই নির্ধারিত অ্যাজেন্ডার বাইরে নাগরিক পরিষেবা সংক্রান্ত বিষয়ও আলোচনায় আসে।
দক্ষিণ কলকাতায় বিজেপির দুই বিধায়ক পাপিয়া অধিকারী ও শর্বরী মুখোপাধ্যায় ১০, ১১ এবং ১২ নম্বর বরোর বৈঠকে অংশ নেন। উত্তর কলকাতায় রীতেশ তিওয়ারি, বিজয় ওঝার মতো বিধায়করাও বৈঠকে ছিলেন। মঙ্গলবার একটি বরোর বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষও।
নিজের বিধানসভা এলাকার সমস্যা নিয়ে বৈঠকে সরাসরি না এসে প্রতিনিধি পাঠানোর পথও নিয়েছেন কয়েকজন বিধায়ক। স্বপন দাশগুপ্ত এবং শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের মতো হেভিওয়েট নেতারাও প্রতিনিধিদের মাধ্যমে নিজেদের এলাকার রাস্তা-সহ নাগরিক সমস্যাগুলি পুরসভার আধিকারিকদের সামনে তুলে ধরেছেন।
মূল সমস্যা সময় নিয়ে। পুরভবনের নিয়ম অনুযায়ী কোনও রাস্তা সংস্কারের জন্য প্রথমে ডিপিআর তৈরি করে পাঠাতে হয়। এরপর টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ করে কাজ শুরু করতে হয়। সব মিলিয়ে পিচ রাস্তার নিয়মমাফিক সংস্কারে অন্তত দু’মাস সময় প্রয়োজন বলে পুরসভার আধিকারিকদের বক্তব্য।
এ বার পুজোর এত অল্প সময় আগে কাজের নির্দেশ আসায় সেই দীর্ঘ প্রক্রিয়া মেনে শহরের সমস্ত রাস্তা সংস্কার করা সম্ভব নয়। ফলে ভোটের আগে ‘পাড়ায় সমাধান’ প্রকল্পে খরচ হয়ে যাওয়া অর্থের পর অব্যবহৃত থাকা ‘মেইনটেন্যান্স’ খাতের সামান্য অর্থ দিয়েই আপাতত রাস্তা মেরামতির পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
বিজেপি বিধায়কদের সঙ্গে বৈঠকে পুরসভার এক্সিকিউটিভদের তরফে কার্যত সেই সীমাবদ্ধতার কথাই জানানো হয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, তৃণমূল পুরবোর্ডের রেখে যাওয়া টাকায় বড় সংস্কার সম্ভব নয়, আপাতত রাস্তার গর্ত বা বেহাল অংশে ‘জোড়া-তাপ্পি’ দিয়েই কাজ চালাতে হবে।
পুজোর আগে কলকাতার রাস্তা নিয়ে প্রতি বছরই সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা থাকে। কিন্তু এ বার সময়ের ঘাটতি এবং অর্থের সীমাবদ্ধতা মিলিয়ে সেই প্রত্যাশা কতটা পূরণ করা সম্ভব হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। বৈঠকে রাস্তা, নিকাশি থেকে জঞ্জাল সাফাই—একাধিক সমস্যা উঠে এলেও শেষ পর্যন্ত ‘স্থায়ী সংস্কার’ নাকি ‘জোড়া-তাপ্পি’, পুজোর আগে কলকাতার রাস্তায় কোন ছবি দেখা যাবে, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।



