দুর্গাপুজোর প্রিভিউ পাস বিক্রি সংক্রান্ত মামলায় প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনকে গ্রেপ্তার করেছে কলকাতা পুলিশ বলে বুধবারের সংবাদমাধ্যমের খবরে জানানো হয়েছে। এ দিন সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) দফতরে হাজিরা দিতে গিয়েছিলেন তিনি। সেখান থেকে বেরোনোর পরই কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের আধিকারিকেরা তাঁকে গাড়িতে তোলেন। তাঁকে লালবাজারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে খবর।
ইউনেস্কোর নাম ও লোগো ব্যবহার করে দুর্গাপুজোর প্রিভিউ শোয়ের পাস বিক্রি এবং সেই সূত্রে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে তদন্ত চলছে। এই মামলায় কলকাতা পুলিশের পাশাপাশি আর্থিক লেনদেনের দিকটি খতিয়ে দেখছে ইডিও। ইন্দ্রনীল সেনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্ত এগোচ্ছে; অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে, এমনটা বলা যাবে না।
কী কারণে গ্রেপ্তারির খবর?
অভিযোগ, ‘massArt’ নামে একটি সংস্থা কলকাতার ২৪টি নির্বাচিত দুর্গাপুজো মণ্ডপে প্রিভিউ শো দেখার জন্য পাস বিক্রি করেছিল। সংস্থাটির সঙ্গে ইন্দ্রনীল সেন ও তাঁর পরিবারের যোগসূত্র রয়েছে বলে অভিযোগকারীর দাবি। ওই সংস্থা ইউনেস্কোর ‘অফিশিয়াল পার্টনার’ বলে পরিচয় দিয়ে আন্তর্জাতিক সংস্থাটির নাম ও লোগো ব্যবহার করেছিল বলেও অভিযোগ ওঠে।
এই অভিযোগের ভিত্তিতে কলকাতা পুলিশের কাছে মামলা দায়ের হয়। তদন্তকারীরা পাস বিক্রির টাকা কোথায় জমা পড়েছিল, কীভাবে তা বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে স্থানান্তরিত হয়েছিল এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও সংস্থাগুলির ভূমিকা কী ছিল, তা খতিয়ে দেখছেন।
বুধবার ইডির দফতরে হাজিরা দেওয়ার সময় সিজিও কমপ্লেক্সের বাইরে কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের আধিকারিকদের উপস্থিতি ছিল বলে সংবাদমাধ্যমে জানানো হয়। পরে ইন্দ্রনীল বেরিয়ে এলে তাঁকে গাড়িতে তোলা হয়। সর্বশেষ প্রকাশিত প্রতিবেদনে তাঁর গ্রেপ্তারির খবর দেওয়া হয়েছে।
কী অভিযোগ উঠেছে ইন্দ্রনীল সেনের বিরুদ্ধে?
অভিযোগকারী জয়দীপ মুখোপাধ্যায়ের বক্তব্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে তৈরি হওয়া ‘massArt’ সংস্থার মাধ্যমে কলকাতার একাধিক বড় পুজোর প্রিভিউ শোয়ের পাস বিক্রি করা হয়েছিল। অভিযোগ, ইউনেস্কোর নাম ব্যবহার করে এই পাস বিক্রির মাধ্যমে বিপুল অঙ্কের টাকা সংগ্রহ করা হয়। তদন্তকারীরা পাস বিক্রি, অর্থ সংগ্রহ এবং সেই অর্থের পরবর্তী গতিপথ খতিয়ে দেখছেন।
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রকাশিত প্রতিবেদনেও অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরুর কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে ইন্দ্রনীল সেন, তাঁর স্ত্রী মধুচন্দা সেন এবং সংস্থার সঙ্গে যুক্ত অন্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগের কথা বলা হয়েছে। তবে অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা নির্ধারণ করবে তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়া।
ইডির তদন্তে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ কোটি টাকার আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে জানানো হয়েছে। সংস্থাটির মাধ্যমে পাস বিক্রি করে সংগৃহীত অর্থ কোথায় গিয়েছে, সেই অর্থের কতটা পুজো সংক্রান্ত কাজে ব্যবহার হয়েছে এবং অন্য কোনও অ্যাকাউন্টে সরানো হয়েছিল কি না, তা তদন্তের বিষয়। এই অঙ্ক তদন্তের সূত্রে উঠে আসা অভিযোগের অংশ; আদালতে প্রমাণিত দুর্নীতির পরিমাণ হিসেবে একে উল্লেখ করা উচিত নয়।
এর আগে ইডি এই মামলায় ইন্দ্রনীল সেনকে একাধিকবার জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। তাঁর সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন ঠিকানায় তল্লাশিও চালানো হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। আর্থিক লেনদেনের নথি এবং পাস বিক্রির সঙ্গে যুক্ত সংস্থাগুলির ভূমিকা খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী সংস্থা।
এই মামলায় গ্রেপ্তারি এড়াতে আগাম জামিনের আবেদন করেছিলেন ইন্দ্রনীল সেন। কিন্তু ১৫ অক্টোবর কলকাতা হাই কোর্ট তাঁর আবেদন খারিজ করে দেয় বলে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছিল। এর ফলে মামলায় তাঁর আইনি অবস্থান নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়।
বুধবার ইডির দফতরে হাজিরার পর কলকাতা পুলিশের পদক্ষেপের খবর সামনে আসে। তবে গ্রেপ্তারির নির্দিষ্ট আইনি কারণ, তাঁর বিরুদ্ধে কোন কোন ধারায় পদক্ষেপ করা হয়েছে এবং পরবর্তী সময়ে তাঁকে আদালতে তোলা হবে কি না—এই বিষয়গুলিতে পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের জন্য নজর থাকবে।



