এক সময় যেই ভারত ছিল মার্কিন শুল্কনীতির সবচেয়ে বড় চাপে, সেই ভারতই এখন দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে—কূটনৈতিক সমঝোতা আর বাণিজ্যিক বার্তায় হঠাৎই বদলে গেল সমীকরণ। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি-র সঙ্গে ফোনালাপের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে বাণিজ্যচুক্তির ঘোষণা করেছেন, তার সরাসরি ফল—ভারতীয় পণ্যের উপর শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমে ১৮ শতাংশ। এই সিদ্ধান্তে শুল্কের নিরিখে পাকিস্তান, বাংলাদেশ এমনকি চিনের থেকেও এগিয়ে গেল ভারত।
সোমবার মোদী–ট্রাম্প ফোনালাপের পরই দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যচুক্তিতে সম্মতির কথা জানান ট্রাম্প। তিনি ঘোষণা করেন, ভারতীয় পণ্যের উপর শুল্কের হার ২৫ শতাংশের বদলে ১৮ শতাংশ করা হচ্ছে। ট্রাম্পের এই বিবৃতি প্রকাশ্যে আসতেই প্রশংসায় মুখর হন মোদী। তিনি জানান, “ভারতে তৈরি পণ্যের উপর শুল্ক কমিয়ে ১৮ শতাংশ করা হয়েছে জেনে আনন্দিত। এই ঘোষণার জন্য ভারতের ১৪০ কোটি মানুষের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতি ট্রাম্পকে ধন্যবাদ।”


এই ঘোষণার পর মার্কিন শুল্ক তালিকায় এক ধাক্কায় অনেকটাই নিচে নেমে এসেছে ভারত। দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দেশগুলির তুলনায় ভারতের উপর শুল্কের বোঝা এখন উল্লেখযোগ্য ভাবে কম। ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্কখাতায় সবচেয়ে বেশি শুল্ক বসেছে ব্রাজিল-এর উপর—৫০ শতাংশ। তার পরে রয়েছে সিরিয়া (৪১%), লায়োস (৪০%), মায়ানমার (৪০%), চিন (৩৭%) এবং কানাডা (৩৫%)।
এ ছাড়া শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ, ভিয়েতনাম ও তাইওয়ান—এই দেশগুলির উপর ২০ শতাংশ শুল্ক চাপানো হয়েছে। পাকিস্তান, কম্বোডিয়া, মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ড-এর ক্ষেত্রে শুল্কের হার ১৯ শতাংশ।
প্রসঙ্গত, ভারত–আমেরিকা বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরেই টানাপোড়েন চলছিল। ২০২৫ সালে পরপর দু’বার ভারতীয় পণ্যের উপর শুল্ক বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছিল ওয়াশিংটন। বিশেষ করে ভেনেজুয়েলা ও রাশিয়া থেকে ভারতের তেল আমদানি নিয়ে প্রকাশ্যে অসন্তোষ জানিয়েছিল আমেরিকা। সেই কারণে ভারত-সহ একাধিক দেশের উপর ২৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক চাপানো হয়। এর ফলে আমেরিকায় ভারতীয় পণ্যের ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল।


সেই অনিশ্চয়তা কাটিয়ে অবশেষে শুল্ক কমার ঘোষণায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছে নয়াদিল্লি। কূটনৈতিক মহলের মতে, এই সিদ্ধান্ত শুধু বাণিজ্যিক সুবিধাই নয়—ভারত–আমেরিকা সম্পর্কের নতুন ভারসাম্যের ইঙ্গিতও দিচ্ছে।







