৯ মাসের অপেক্ষার অবসান: ঐতিহাসিক ভারত–নিউজিল্যান্ড মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি, যুগান্তকারী ঘোষণা মোদী–লাক্সনের

দীর্ঘ আলোচনার পর চূড়ান্ত এফটিএ—বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে নতুন দিগন্ত খুলছে দুই দেশের জন্য

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

দীর্ঘ নয় মাসের টানা কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক আলোচনার পরে অবশেষে বাস্তব রূপ পেল ভারত–নিউজিল্যান্ড মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA)। সোমবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লাক্সন ফোনে কথা বলার পর যৌথভাবে এই ঐতিহাসিক চুক্তির ঘোষণা করেন। দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কে এটি এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক বলেই মনে করছেন কূটনৈতিক ও বাণিজ্য মহল।

কীভাবে এগোল আলোচনা

২০২৫ সালের মার্চ মাসে প্রধানমন্ত্রী লাক্সনের ভারত সফরের সময় এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হয়। দু’দেশের নেতৃত্বই শুরু থেকেই সময় বেঁধে আলোচনাকে দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার উপর জোর দেয়। মাত্র পাঁচ দফার আলোচনার মধ্যেই ৯ মাসে চুক্তি চূড়ান্ত হওয়াকে প্রশাসনিক দক্ষতা ও রাজনৈতিক সদিচ্ছার স্পষ্ট নজির হিসেবে দেখা হচ্ছে।

গত মাসেই কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল নিউজিল্যান্ড সফরে গিয়ে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, আলোচনা ইতিবাচক পথে রয়েছে এবং দ্রুত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে। সেই পূর্বাভাসই এ বার বাস্তব হল।

কোন কোন ক্ষেত্রে মিলবে সুবিধা

এই এফটিএ কার্যকর হলে ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ, পরিষেবা, শিক্ষা, এমএসএমই এবং স্টার্টআপ খাতে একাধিক নতুন সুযোগ তৈরি হবে। বিশেষ করে—

তবে দেশের কৃষি ও ডেয়ারি খাতের স্বার্থ রক্ষায় ডেয়ারি ও কিছু সংবেদনশীল কৃষিপণ্যকে এই চুক্তির বাইরে রাখা হয়েছে।

বিনিয়োগ ও বাণিজ্যের অঙ্ক

ভারতীয় বাণিজ্য মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪–২৫ অর্থবর্ষে ভারত ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ১.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৪৯ শতাংশ বেশি।

চুক্তির অংশ হিসেবে নিউজিল্যান্ড আগামী ১৫ বছরে ভারতে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এই বিনিয়োগ ইউরোপীয় মুক্ত বাণিজ্য সংস্থার মডেল অনুসরণে একটি রিব্যালান্সিং মেকানিজম-এর মাধ্যমে সুরক্ষিত থাকবে—অর্থাৎ নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হলে বাণিজ্যিক ছাড় স্থগিত করা হতে পারে।

কেন গুরুত্বপূর্ণ এই চুক্তি

এই চুক্তি কার্যকর হলে ২০২১ সালের পর এটি হবে ভারতের সপ্তম মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি। পরিষেবা ও কর্মী চলাচল (mobility)–কে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ায়, শুধু পণ্য রপ্তানি নয়, মানবসম্পদ ও দক্ষতা বিনিময়েও নতুন অধ্যায় শুরু হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

সব মিলিয়ে, ভারত–নিউজিল্যান্ড এফটিএ দুই দেশের সম্পর্ককে কেবল বাণিজ্যিক স্তরে নয়, কৌশলগত ও দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্বের দিকেও এগিয়ে নিয়ে যাবে—এমনটাই মত বিশেষজ্ঞদের।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন