গাজা সংঘাত ঘিরে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে, আর সেই পরিবর্তনের কেন্দ্রেই এবার ভারত। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগে গঠিত ‘বোর্ড অফ পিস’-এর প্রথম বৈঠকে অংশ নিল নয়াদিল্লি—যদিও সদস্য হিসেবে নয়, পর্যবেক্ষক হিসেবে। কয়েক সপ্তাহ আগেও যে উদ্যোগ থেকে দূরত্ব বজায় রেখেছিল ভারত, সেখানে হঠাৎ অংশগ্রহণ কূটনৈতিক মহলে নতুন জল্পনার জন্ম দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় দূতাবাসের চার্জ ডি’অ্যাফেয়ার্স নমজ্ঞ সি খাম্পা। উল্লেখযোগ্য বিষয়, জানুয়ারিতে দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের মঞ্চে ‘বোর্ড অফ পিস’-এর আনুষ্ঠানিক ঘোষণার সময় ভারত উপস্থিত ছিল না। তখন অনেকেই মনে করেছিলেন, ট্রাম্পের এই উদ্যোগে যোগ দিতে অনিচ্ছুক নয়াদিল্লি।
বোর্ড অফ পিস ঘোষণার সময়ই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চিঠি লিখে ভারতকে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন ট্রাম্প। শুধু ভারত নয়, পশ্চিম ইউরোপের একাধিক দেশও প্রথম পর্যায়ে এই উদ্যোগ থেকে দূরত্ব বজায় রেখেছিল। ফলে আন্তর্জাতিক মহলে প্রকল্পটির গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল।
পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে সম্প্রতি ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তি ঘোষণার পর। সেই ঘোষণার পর থেকেই বোর্ড অফ পিস নিয়ে ভারতের অবস্থান পুনর্বিবেচনার ইঙ্গিত মিলতে থাকে। বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানান, গাজা-সহ পশ্চিম এশিয়ায় দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগকে ভারত নীতিগতভাবে সমর্থন করে এবং অংশগ্রহণের বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, বাণিজ্য চুক্তির পর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও মজবুত করার কৌশল হিসেবেই বোর্ড অফ পিস বৈঠকে ভারতের অংশগ্রহণ। যদিও সরকারিভাবে এ বিষয়ে কোনও সরাসরি মন্তব্য করা হয়নি।
বৈঠকে মোট ৫০টি দেশ অংশ নেয়, যার মধ্যে পাকিস্তান-সহ ২৭টি দেশ ইতিমধ্যেই বোর্ডের সদস্য হয়েছে। সূত্রের খবর, গাজার পুনর্গঠন ও শান্তি প্রক্রিয়ার জন্য প্রায় ৭০০ কোটি ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ৯টি সদস্য দেশ। আমেরিকা নিজেও বিপুল অর্থ বরাদ্দের ঘোষণা করেছে, যদিও সেই অর্থ কীভাবে ব্যয় হবে তা এখনও স্পষ্ট নয়।
বিশ্লেষকদের দাবি, ট্রাম্প প্রশাসন রাষ্ট্রসংঘের সমান্তরাল একটি আন্তর্জাতিক কাঠামো গড়ে তোলার চেষ্টা করছে বলেই এই বোর্ড গঠন। যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট সেই অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন। তবে ভারতের পর্যবেক্ষক হিসেবে যোগদান স্পষ্টই ইঙ্গিত দিচ্ছে—গাজা প্রশ্নে নয়াদিল্লি এখন কূটনৈতিক ভারসাম্যের পথে হাঁটছে।



