দীর্ঘ ১৭ মাসের রাজনৈতিক অস্থিরতার অবসান ঘটিয়ে বাংলাদেশে স্থায়ী সরকার গঠনের পর শুরু হয়েছে নতুন কূটনৈতিক সমীকরণের অধ্যায়। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পরই Tarique Rahman-কে দিল্লি সফরের আমন্ত্রণ জানাল ভারত। প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi-র বার্তা হাতে তুলে দেন তাঁর বিশেষ দূত হিসেবে উপস্থিত লোকসভার স্পিকার Om Birla। একই সময়ে ঢাকায় সক্রিয় হয়ে উঠেছে চিনও—নয়া প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সময় চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছেন বেজিংয়ের রাষ্ট্রদূত।
শপথ অনুষ্ঠানের দিনই ওম বিড়লা ও তারেক রহমানের মধ্যে একান্ত বৈঠক হয় বলে কূটনৈতিক সূত্রের দাবি। সেই বৈঠকে ভারতের বিদেশসচিব Vikram Misri এবং ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার Pranay Kumar Verma-সহ দূতাবাসের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনায় দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, আঞ্চলিক সহযোগিতা ও ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক রূপরেখা নিয়ে কথাবার্তা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
সূত্রের খবর, প্রধানমন্ত্রী মোদীর চিঠিতে তারেক রহমানকে দিল্লি সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এর ফলে অতীতের টানাপোড়েন ভুলে ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্ক নতুন করে ঘনিষ্ঠ হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে।
এদিকে পরিস্থিতির দিকে নজর রেখে সক্রিয় হয়েছে চিন। ঢাকায় নিযুক্ত চিনা রাষ্ট্রদূত Yao Wen বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও বিদেশমন্ত্রী Khalilur Rahman-এর কাছে পৃথক চিঠি পাঠিয়ে সৌজন্য সাক্ষাতের সময় চেয়েছেন। দ্রুত বৈঠকের ব্যবস্থা করার অনুরোধও জানিয়েছেন তিনি। জানা গিয়েছে, ১৪ ফেব্রুয়ারিতেই প্রথমবার সাক্ষাতের অনুরোধ জানানো হয়েছিল, তবে তখন শপথ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ না হওয়ায় তা সম্ভব হয়নি।
অন্যদিকে বাংলাদেশের বিদেশ প্রতিমন্ত্রী Shama Obayed-এর সঙ্গেও বৈঠকের সময় চেয়েছেন ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় কুমার বর্মা। বিদেশমন্ত্রকের এক আধিকারিকের দাবি, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতীয় প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎ কার্যত নিশ্চিত।
বিশ্লেষকদের মতে, শেখ হাসিনা-পরবর্তী সময়ে ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্ক এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। অন্তর্বর্তী প্রশাসনের সময় সম্পর্ক কিছুটা শীতল হলেও নতুন সরকারের সঙ্গে দিল্লির দ্রুত যোগাযোগ সেই দূরত্ব কমানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে। একই সঙ্গে চিনের কূটনৈতিক সক্রিয়তা আঞ্চলিক প্রতিযোগিতার ইঙ্গিত হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে অন্তর্বর্তী প্রশাসনের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক Muhammad Yunus ১৩টি দেশের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। ভারত-সহ একাধিক দেশের প্রতিনিধির উপস্থিতি দক্ষিণ এশিয়ার নতুন কূটনৈতিক সমীকরণের দিকেই ইঙ্গিত করছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা।



