নজরবন্দি ব্যুরো: চিনকে চ্যালেঞ্জ ভারতের। বিক্রমাদিত্য কে নিয়ে নৌমহড়া ট্রপেক্স -এর প্রস্তুতি। একদিকে পাক সন্ত্রাস আর অন্যদিকে চিনের নিয়ন্ত্রণরেখা তথা এলওসিতে সংঘাতের জেরেই নৌশক্তিকে বাড়িয়ে তুলতে তৎপর হয়েছে ভারত। সমুদ্রে চিনের আগ্রাসী নীতিকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে জাপান, আমেরিকা ও অস্ট্রেলিয়াকে সঙ্গে নিয়ে চারশক্তি কেয়াডের নৌসেনা মহড়া হতে পারে এবছরই বলে জানা গেছে। সেইসঙ্গে জলপথ ও স্হলপথে বৃহত্তর সামরিক মহড়া ট্রপেক্স এর প্রস্তুতির কাজও শুরু হতে চলেছে। সরাসরি নাম না করলেও মূলত চিনকে এই বার্তা দেওয়াই নৌ- মহড়ার অন্যতম উদ্দেশ্য।
আরও পড়ুনঃ বেকার যুবক-যুবতীদের জন্যে বড় উদ্যোগ। কথা রাখলেন মুখ্যমন্ত্রী।


জলপথে নিউক্লিয়ার অ্যাটাক সাবমেরিন , যুদ্ধজাহাজ ও আকাশপথে কমব্যাট ফাইটার এয়ারক্রাফ্ট উড়িয়ে যেকোনও জায়গাতেই ভারত যে অপ্রতিরোধ্য তা দেখিয়ে দেবে।আগামী বছর জানুয়ারী মাস থেকেই ট্রপেক্স নৌমহড় হবে। তবে এখন থেকেই চলছে তার প্রস্তুতি । অক্টোবরে যুদ্ধজাহাজ ও সাবমেরিন নিয়ে ভারতীয় নৌসেনারা প্রস্তুতি শুরু করবে। এই প্রস্তুতিতে যোগ দেবে নৌসেনার ওয়েস্টার্ন কম্যান্ড ডিফেন্স অব গুজরাত এবং ইস্টার্ন ন্যাভাল কম্যান্ড অপারেশনাল রেডিনেস এক্সারসাইজ।
চিনকে চ্যালেঞ্জ ভারতের। বিক্রমাদিত্য কে নিয়ে নৌমহড়া ট্রপেক্স -এর প্রস্তুতি। নৌসেনা সূত্রের খবরে জানা গেছে , প্রায় একমাস ধরে এই মহড়ার প্রস্তুতির কাজ চলবে। ২০১৪ সালে ট্রপেক্স এক্সারসাইজ নৌসেনার চিফ অ্যাডমিরাল অরুন প্রকাশ বলেছেন, গত বছর জানুয়ারী-ফেবরুয়ারী মাসে হয়েছিল ট্রপেক্স মহড়া। ৬০ টি নৌসেনার জাহাজ,১২ টি কোস্ট গার্ডশিপ ও ৬০ টি এয়ারক্রাফ্ট এতে যোগ দিয়েছিল। গত বছর পুলওয়ামা হামলা ও তার প্রত্যাঘাতে বালাকোট স্ট্রাইকের সময়ই বিমানবাহী রণতরী আইএনএস বিক্রমাদিত্য ও পরমাণু শক্তিবাহিত সাবমেরিন আরবসাগরে মোতায়েন করেছিল ভারতীয় নৌসেনা।
সেই সময়ের ট্রপেক্স মহড়ায় যুদ্ধবাহী বিমান রনতরী বিক্রমাদিত্য সহ আরও একটি নৌবহর অংশ নিয়েছিল। উত্তর আরবসাগরে একাধিক রণতরী ও অ্যাটাক সাবমেরিন পাঠিয়েছিল ভারত। নৌবাহিনীর এহেন রণমূর্তী দেখে পাকিস্তান জলপথে আর কোনও উপদ্রব করেনি। মনে আসতেই পারে আসলে কী এই ট্রপেক্স!! নৌসেনার চিফ অ্যাডমিরাল বলছেন, চিন যেভাবে জলপথেও তাদের সেনাবাহিনী নিয়ে আসছে তাতে ভারতের শক্তি প্রদর্শনের দরকার আছে বইকি। ট্রপেক্স মহড়াই হলো সেই চ্যালেঞ্জের অস্ত্র।


২০০৫ সালে প্রথম এই নৌ মহড়া শুরু করে ভারতীয় নৌবাহিনীর ওয়েস্টার্ন ন্যাভ্যাল কম্যান্ড।গোয়া উপকূলে সিট হয়েছিল। এরপর প্রতিবছরই এই নৌমহড়ার আয়োজন করে ভারত। ২০১৬ সালে ট্রপেক্স হয়নি,তবে ২০১৭ সালে বৃহওর নৌমহড়া চালায় ভারতীয় নৌসেনা। ট্রপেক্স নৌমহড়ার প্রধান বৈশিষ্ট হলো, সমুদ্রপথ যেমন আধুনিক রণতরী সাজানো হয়, পাশাপাশি নিউক্লিয়র অ্যাটাক , সাবমেরিনও তাদের শক্তি প্রদর্শন করে। সেইসঙ্গে আকাশপথে বায়ুসেনা ও নৌসেনার ফাইটার এয়ারক্রাফ্টও থাকে। ভারতীয় নৌবাহনী কতটা দক্ষ তারই প্রদর্শনী হয় এই মহড়ায়।
এছাড়া শব্দের চেয়েও দ্রুত গতির করুজ মিসাইল ব্রাক্ষসের প্রদর্শিত হয়। ক্ষেপনাস্ত্র বিধ্বংসী জাহাজ থেকে নির্ভুল লক্ষ্যে মিসাইল ছুঁড়ে তার শক্তিও দেখানো হয়। মহড়ায় যোগ দেয়, বায়ুসেনার সুখোই -৩০ এয়ারক্রাফ্ট, নৌসেনার মীগ ভ্যারিয়ান্ট। তাছাড়া নৌবাহিনীর পি-৮১ এয়ারক্রাফ্টও আকাশে চক্কর কাটে। চিফ অ্যাডমিরাল জানান ট্রপেক্স হল একপ্রকার যুদ্ধ মহড়া। পুরোপুরি যুদ্ধের মতোই রণবিন্যাস সাজানো হয়।
উল্লেখ্য, বিমানবাহিনী রণতরী আইএনএস বিক্রমাদিত্য ভারত, প্রশান্ত মহাসাগর অঞ্চলে চিনের একাধিপত্য নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই অশান্তি চলছে। গালওয়ান সীমান্ত সংঘাতের আগেই ভারত মহাসাগরে চিনা যুদ্ধজাহাজের আনাগোনা লক্ষ্য করা গিয়েছিল। বেজিং অবশ্য দাবি করে, দলদস্যু দমনের জন্যই নামানো হয়েছিল জাহাজ। কিন্তু ভারতীয় নৌসেনার নজরদারীতে ধরা পড়ে চিনা জাহাজগুলিকে ঘিরে রেখেছে পিপলস লিবারেশন আর্মির যুদ্ধজাহাজ।







