নজরবন্দি ব্যুরো: তোষাখানা মামলায় পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে আজই তিন বছরের জেলের সাজা শুনিয়েছিল ইসলামাবাদের একটি আদালত। আর সাজা ঘোষণার কিছুক্ষণের মধ্যেই লাহোরের জামান পার্কের বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনিসাফ-এর চেয়ারম্যানকে। পাকিস্তানের ‘কপ্তান’কে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে লাহোরের কোট লাখপত জেলে।
আরও পড়ুন: তোষাখানা মামলায় ৩ বছরের জেল, ৫ বছর ভোটে লড়তে পারবেন না ইমরান
ঠিক কী জন্য জেল হল ইমরানের? প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন সৌদি আরবের রাজা মহম্মদ বিন সলমন ইমরান খানকে একটি বহুমূল্য ঘড়ি উপহার দিয়েছিলেন। পাকিস্তানের নিয়ম অনুযায়ী, দেশের রাষ্ট্রনায়কেরা বিদেশ থেকে যা যা উপহার পান তা সরকারি কোষাগারে রাখতে হয়। কেবল ১০ হাজার পাকিস্তানি টাকার কম হলেই তা নিজের কাছে রাখা যায়। তার বেশি মূল্যের কোনও উপহার পছন্দ হলে, বাজার-মূল্যের সমপরিমাণ অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা করে সেই উপহার নিজের কাছে রাখতে পারেন। এক্ষেত্রে ঘড়িটির দাম ছিল অনেক বেশি। তো, ঘড়িটি নিয়ে ইমরান কী এমন করলেন?

অভিযোগ, সরকারি কোষাগারে উপহার জমা দেওয়া তো দূর অস্ত, নিজের কাছে শুধু রাখাই নয়, বরং দুবাইয়ের এক ব্যবসায়ীকে প্রায় ৫৬ কোটি পাকিস্তানি টাকায় ঘড়িটি বেচে দিয়েছেন ইমরান! সেই থেকেই তোষাখানা মামলার সূত্রপাত। এই অভিযোগে প্রেক্ষিতে পাকিস্তানের নির্বাচন কমিশন ইমরানকে পাঁচ বছরের জন্য নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিল। কমিশনের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ইমরান পাল্টা ইসলামাবাদ হাইকোর্টে আবেদন জানালেও আদালত তা খারিজ করে দেয়। আর এবার গ্রেফতার করা হল তাঁকে।

এখন, ইমরান খানকে এই তোষাখানা মামলায় তিন বছরের জেলের সাজা দেওয়া হয়েছে। আগামী পাঁচ বছর ভোটে লড়তেও পারবেন না তিনি। এদিকে আবার, চলতি বছরেই পাকিস্তানে সাধারণ নির্বাচন। কিন্তু, সেখানে জনপ্রিয়তা থাকা সত্ত্বেও ইমরানের লড়া কার্যত অসম্ভব বলেই মনে করা হচ্ছে।
বাড়ি থেকে গ্রেফতার ইমরান খান! কোট লাখপত জেলে পাকিস্তানের ‘কপ্তান’




