নজরবন্দি ব্যুরো: তোষাখানা মামলায় বিপাকে পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। তিন বছরের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তাঁকে। এমনকি আদালতের নির্দেশে আগামী ৫ বছর নির্বাচনে লড়তেও পারবেন না পিটিআই সুপ্রিমো। শনিবার জেলা ও দায়রা আদালতে দোষী সাব্যস্ত হলেন ইমরান। এছাড়াও তাঁকে জরিমানাও করা হয়েছে। অনাদায়ে অতিরিক্ত ছয় মাস জেলে থাকতে হবে বলে জানিয়েছে আদালত।
আরও পড়ুন: গোপনে বিয়ে করেছিলেন, রয়েছে একটি বাচ্চাও! রশ্মিকার রহস্য ফাঁস
তোষাখানা মামলার শুরু থেকেই ইমরান খানের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল। দাবি করা হয়েছিল, পাক সরকারকে বিভিন্ন রাষ্ট্রের তরফে যে উপহারগুলি পাঠানো হয়েছিল সেগুলি তোষাখানায় জমা না করে বিপুল অর্থের বিনিময় বিক্রি করে দিয়েছেন কিংবা নিজের বাড়িতে নিয়ে গিয়েছিলেন ইমরান খান। ২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী পদের অপব্যবহার করেছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। প্রসঙ্গত, পাকিস্তানের আইনানুযায়ী বিভিন্ন রাষ্ট্রপ্রধানরা যে উপহার দেবেন সেগুলিকে পাক তোষাখানায় জমা করতে হবে। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই মামলা শুরু হয়েছিল।

এদিন এই মামলার শুনানিতে বিচারক জানান, ইমরান খানের বিরুদ্ধে অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হয়েছে। তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে ভুয়ো হিসেব নির্বাচন কমিশনে পেশ করেছিলেন। আদালতে তাঁর দুর্নীতি প্রমাণিত হয়েছে। জেলা ও দায়রা আদালত তাঁকে তিন বছরের কারাদণ্ড এবং এক লক্ষ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ডের নির্দেশ দেয়। একইসঙ্গে বলা হয় আগামী পাঁচ বছর নির্বাচনে লড়তে পারবেন না ইমরান খান। উল্লেখ্য, তোষাখানা মামলায় ইমরানের বিরুদ্ধে নিম্ন আদালতে মামলার গ্রহণযোগ্যতাকে চ্যালেঞ্জ করে আগেই ইসলামাবাদা হাইকোর্টে মামলা করা হয়েছিল। শুক্রবার সেই আবেদন খারিজ করে দিয়েছে হাইকোর্ট। আর শনিবার দোষী সাব্যস্ত হন প্রাক্তন পাক প্রধানমন্ত্রী।

আগামী বছরেই পাকিস্তানে সাধারণ নির্বাচন রয়েছে। প্রাক্তন পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের তেহরিক-ই-ইনসাফ দল হল ইসলামাবাদের প্রধান বিরোধী দল। এমন সময়ে আদালতের নির্দেশ দলের জন্য বড় ধাক্কা বলেই মনে করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই খবর পাওয়া যাচ্ছে, আদালতের সাজা ঘোষণার পরই জার্মান পার্কের বাড়ি থেকে ইমরান খানকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
তোষাখানা মামলায় ৩ বছরের জেল, ৫ বছর ভোটে লড়তে পারবেন না ইমরান










