নজরবন্দি, শিলিগুড়িঃ চিতাবাঘ শিকার করে তার সঙ্গে ছবি তুলে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট। চিতাবাঘের মাংস দিয়েই চললো পিকনিক। পিকনিকের পর চিতাবাঘের চামড়া ও থাবা পাচারের চেষ্টা! ঘটনায় গোপনসূত্রে খবর পেয়ে অভিযান চালিয়ে তিন যুবককে গ্রেপ্তার করল বন দপ্তর। চাঞ্চল্যকর ওই ঘটনাটি ঘটেছে শিলিগুড়ি সংলগ্ন ফাসিদেওয়া ব্লকে।
আরও পড়ুনঃ আগামী সপ্তাহের বেশকয়েকদিন বন্ধ থাকছে মেট্রো পরিষেবা, বিস্তারিত জেনেনিন


ধৃতদের বয়ান শুনে চক্ষু চড়কগাছ বন দপ্তরের আধিকারিকদের। এই প্রথম চিতাবাঘের মাংস খাওয়ার ঘটনায় অবাক বন আধিকারিক থেকে পুলিশ প্রত্যেকে। জানা গিয়েছে, সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ কয়েকজন যুবকের সঙ্গে মৃত চিতাবাঘের ছবি ভাইরাল হয়। বিষয়টি নজরে আসে ওয়াইল্ড লাইফ ক্রাইম কন্ট্রোল ব্যুরো, সশস্ত্র সীমা বলের গোয়েন্দা বিভাগ ও বন দপ্তরের। ছবিগুলি হাতে আসা মাত্রই তড়িঘড়ি তদন্তে নামা হয়।

টানা ১৫ দিন তদন্তের পর অবশেষে হদিশ মেলে ওই দুষ্কৃতীদের। এরপর শুক্রবার এসএসবির গোয়েন্দা বিভাগ সূত্রে খবর মেলে ওই চিতাবাঘের ছাল নেপালে পাচারের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। খবর পাওয়ামাত্র কার্শিয়াং ফরেস্ট ডিভিশনের ফাসিদেওয়া রেঞ্জ, ওয়াইল্ড লাইফ ক্রাইম কন্ট্রোল ব্যুরো ও এসএসবি যৌথভাবে অভিযানে নামে। ফাসিদেওয়া ব্লকের ফৌজিজ্যোতে অভিযান চালানো হয়।
সেখানকার একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাছ থেকে ওই ব্লকেরই রায় লাইনের বাসিন্দা মুকেশ কেরকেট্টা ও পিতালুশ কেরকেট্টা নামে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার হয় চিতাবাঘের চামড়াটি। কিন্তু চামড়াটি দেখে সন্দেহ হয় আধিকারিকদের। কারণ চামড়া থেকে চিতাবাঘের থাবাগুলি গায়েব ছিল। এরপর ওই দুজনকে ফের জেরা করা হয়। রেঞ্জ অফিসার সোনম ভুটিয়া বলেন,


চিতাবাঘ শিকার করে তার মাংস দিয়েই চললো পিকনিক! চাঞ্চল্যকর ঘটনা শিলিগুড়িতে
“মৃত চিতাবাঘের সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবি দেখা মাত্রই আমরা তদন্ত শুরু করি। এরপর অভিযানে ওই তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এই প্রথম শুনলাম যে চিতাবাঘের মাংসও তারা খেয়েছে। আর ওই চামড়া পাচারের উদ্দেশ্যে ধৃতরা খোঁজাখুঁজি করছিল। কিভাবে ওই চিতাবাঘটিকে মারা হয়েছে তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।” তবে এদিন তিনি ওই ঘটনার পরই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। কারণ মৃত চিতাবাঘের বিষয়ে গ্রামবাসীরা পুলিশ বা বন দপ্তরকে কোনও খবর দেয়নি।







