হাওড়ার প্রোমোটার খুনে গ্রেফতার মূল দুই অভিযুক্ত—টানা আটদিনের নাটকীয় তল্লাশির পর অবশেষে দিল্লি থেকে ধরা পড়ল হাওড়ার পিলখানায় প্রোমোটার খুনের মূল অভিযুক্ত হারুন খান ও রোহিত হোসেন। গোলাবাড়ি থানার পুলিশের বিশেষ দল তাদের গ্রেফতার করেছে। ইতিমধ্যেই এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের তদন্তভার নিয়েছে সিআইডি (CID)। প্রকাশ্যে আসা ভয়ঙ্কর সিসিটিভি ফুটেজে অভিযুক্তদের স্পষ্ট দেখা গিয়েছিল, যা তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র দেয়। দীর্ঘ আটদিনের উত্তেজনার পর অবশেষে পুলিশের জালে ধরা পড়ল এই জোড়া অভিযুক্ত।
গত ২৫ ফেব্রুয়ারি ভোরবেলা হাওড়ার পিলখানা এলাকায় প্রকাশ্য রাস্তায় নৃশংসভাবে খুন করা হয় প্রোমোটার শফিক খানকে। অভিযোগ, পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি করে এই খুনের ঘটনা ঘটায় হারুন খান ও রোহিত হোসেন।
ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, শফিক খানের পাশে দাঁড়িয়েই আচমকা বন্দুক তাক করে গুলি চালায় রোহিত হোসেন। এরপর মৃত্যু নিশ্চিত করতে বেপরোয়াভাবে একাধিক রাউন্ড গুলি চালাতে থাকে হারুন খান। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় প্রোমোটারের।
খুনের পর দ্রুত এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায় দুই অভিযুক্ত। তদন্তে জানা যায়, মোটরবাইক ও ট্যাক্সি ব্যবহার করে তারা প্রথমে হাওড়া থেকে কলকাতায় পালিয়ে আসে।
এরপর জোড়াসাঁকো-সহ কলকাতার বিভিন্ন এলাকায় তাদের গতিবিধি খতিয়ে দেখে পুলিশ। বিভিন্ন এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে তদন্তকারীরা নিশ্চিত হন যে অভিযুক্তরা জোড়াসাঁকো এলাকায় আশ্রয় নিয়েছিল।
পরে তদন্তে জানা যায়, সেখান থেকে তারা গার্ডেনরিচে পালিয়ে যায় এবং সেখান থেকে গাড়িতে করে বিহারে পৌঁছয়। পরে বিহার থেকে দিল্লিতে গিয়ে গা ঢাকা দেয়।
এদিকে তদন্ত চলাকালীন একটি জলের ট্যাঙ্কার থেকে খুনে ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্র, ম্যাগাজিন এবং গুলি উদ্ধার করে পুলিশ। অভিযুক্তদের আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগে তিনজনকে আগেই গ্রেফতার করা হয়েছিল।
এই ঘটনায় অভিযুক্তদের দীর্ঘদিন গ্রেফতার না হওয়ায় প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। মৃত শফিক খানের পরিবারের আবেদনের পরই মামলার তদন্তভার গ্রহণ করে সিআইডি।
অবশেষে অভিযুক্তদের গতিবিধি ট্র্যাক করে দিল্লিতে পৌঁছয় পুলিশ। সেখান থেকেই গ্রেফতার করা হয় হারুন খান ও রোহিত হোসেনকে। জানা গিয়েছে, তাদের ট্রানজিট রিমান্ডে এনে হাওড়ায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।



