হাওড়ার পিলখানায় দিনের আলোয় ব্যবসায়ীকে গুলি করে খুনের ঘটনায় চাঞ্চল্য এখনও কাটেনি। তদন্তে নেমে তিন জনকে আটক করেছে হাওড়া সিটি পুলিশ, তবে এখনও অধরা রয়ে গেছে মূল অভিযুক্তরা। তোলা না দেওয়ার জেরেই এই খুন—এমন অভিযোগ তুলে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন নিহতের পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা। ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এলাকা, পথ অবরোধ থেকে আগুন লাগানো—পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খেতে হয় পুলিশকে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রোমোটার সফিক খান খুনের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে মহম্মদ বিলাল, মহম্মদ ওয়াকিল এবং দিলদার হোসেন নামে তিন জনকে আটক করা হয়েছে। তাঁরা কলকাতার বউবাজার এলাকার বাসিন্দা। তদন্তকারীদের দাবি, এই তিনজন মূল অভিযুক্ত হারুন খান ও রোহিত হোসেনকে পালাতে সাহায্য এবং আশ্রয় দেওয়ার সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারেন। বর্তমানে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।


হাওড়া সিটি পুলিশ ইতিমধ্যেই হাওড়া ও কলকাতার বিভিন্ন এলাকায় একাধিক অভিযান চালিয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত গ্রেপ্তার এড়িয়ে গিয়েছে মূল অভিযুক্তরা।
নিহত সফিক খান (২৭) পেশায় প্রোমোটার এবং পিলখানারই বাসিন্দা। পরিবারের অভিযোগ, চাহিদা মতো তোলা দিতে অস্বীকার করায় তাঁকে পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়েছে। বুধবার ভোরে নিজের এলাকার একটি চায়ের দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় দুই দুষ্কৃতী। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি করা হয়, ফলে ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন তিনি।
খুনের প্রতিবাদে বুধবার সন্ধ্যায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। জিটি রোডে একটি বাইকে আগুন ধরিয়ে দেন ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা। আগুন নেভাতে গেলে পুলিশের সঙ্গে বচসাও বাধে। দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের দাবি তুলেছেন বাসিন্দারা।


পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মূল অভিযুক্ত হারুন খান ও রোহিত হোসেন এলাকার পরিচিত দুষ্কৃতী। গোলাবাড়ি থানায় তাঁদের বিরুদ্ধে বেআইনি অস্ত্র রাখা-সহ একাধিক মামলা রয়েছে। অতীতে দু’জনই জেল খেটেছেন। রোহিত সম্প্রতি জামিনে মুক্তি পেয়েছিলেন। ২০১৭ সালের একটি গুলি চালানোর ঘটনাতেও হারুনের নাম জড়িয়েছিল বলে পুলিশ সূত্রে দাবি।
তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, হারুন খান নিজেও প্রোমোটারি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত এবং পোশাকের ব্যবসাও চালান। স্থানীয় সূত্রের দাবি, বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতেও তাঁকে নিয়মিত দেখা যেত। যদিও পুলিশ এখনও এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি।
পুরো ঘটনার পেছনে তোলা আদায়, ব্যবসায়িক বিরোধ নাকি পুরনো শত্রুতা—সব দিক খতিয়ে দেখছে তদন্তকারীরা। মূল অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি জোরদার করা হয়েছে।







