নজরবন্দি ব্যুরো: ১১ বছরে বাংলায় প্রতিশ্রুতি এসেছে যত চাকরি এসেছে তার অনেক ভাগ কম। নিজেদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে, নিজেদের কথা জানতে নবান্ন অভিযান করেছিলেন SFI এবং DYFI এর কর্মীরা। শুধু বলেছিলেন গোটা রাজ্যে ১১ বছরে যেখানে একটাও চাকরি হয়না তাঁকে একবার সামনে থেকে দেখে আসবো না? সেই দেখতে যাওয়া, চোখে চোখ রেখে উত্তর চাইতে যাওয়া যে বিপ্লবের শেষ দিন হবে কে জানতো? গত ১১ তারিখ নবান্ন অভিযান চালায় হাজার হাজার কালো মাথা আর লাল সাদা পতাকা।
আরও পড়ুনঃ নির্বিঘ্নে ভোট করানোর উদ্দেশ্যে রাজ্যের সব বুথকেই স্পর্শকাতর ঘোষণার পথে নির্বাচন কমিশন।


এমনিতেই গোটা রাস্তা ঘিরে ফেলা হয়েছিল হাজার হাজার পুলিশের নিশ্ছিদ্র প্রহরীতে। তবু যখন নবান্নের সামনে প্রথম স্লোগান ওঠে, মেনে নিতে পারেনি মাননীয়া পুলিশ। সোজা লকাপে। বেলা বাড়ে, মানুষের ঢল বাড়ে। নিজেদের মতো করে পরিস্থিতি সামাল দিতে কাঁদানে গ্যাস, জলকামান, লাঠিচার্জ সবই করেছিল পুলিশ। পুলিশের লাঠিচার্জে আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলো সেদিন একাধিক কর্মী। জেলে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিলো আরো বেশি সংখ্যক মানুষকে। প্রশ্ন সেদিন থেকেই উঠছিল, নিজেদের গণতান্ত্রিক দেশে, প্রশাসনের কাছে জবাব চাইতে গিয়ে সেই প্রশাসনের পুলিশের হাতেই মার কেনো খেতে হবে মানুষকে।
আর সেই বর্বর অত্যাচারের ফলে প্রাণ গিয়েছিল ৩১ বছরের মইদুল মিদ্যার। কলকাতার একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে চিকিৎসারত ছিলেন ১৩ তারিখ থেকে। ডাক্তার জানিয়েছিলেন পুলিশের অতিরিক্ত লাঠি চার্জের ফলেই ঘটেছে এই মৃত্যু। মইদুলের চিকিৎসার দায়িত্বে ছিলেন সিপিএম নেতা ফুয়াদ হালিম। তিনি জানান পুলিশের প্রচণ্ড মারে মইদুলের শরীরের একাধিক মাংসপেশিতে গুরুতর আঘাত লাগে। ফলে সডিয়াম, পটাশিয়াম বেরিয়ে গিয়ে ফুসফুসে জল জমতে শুরু করে জল তাঁর। পেশি থেকে অতিরিক্ত প্রোটিন বেরিয়ে যায়, যার কারনেই ১৫ তারিখ আচমকাই কার্ডিয়াক আরেস্ট হয়ে মারা যান তিনি।
মইদুলই পরিবারে একমাত্র রোজগেরে ছিলেন, বাড়িতে আছে মা,স্ত্রী, মেয়ে। আর তাঁর মৃত্যু নিয়ে এবার SIT গঠন করল কলকাতা পুলিশ। বুধবার লালবাজারে গোয়েন্দাপ্রধান মুরলীধর শর্মা জানান, ওই যুবকের মৃত্যুতে ৭জনের একটি তদন্তকারী দল তৈরি হয়েছে।নিউ মার্কেট এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিটের সিসিটিভি ও ভিডিওয় দেখা গিয়েছে, তিনি রাস্তার একপাশে পড়ে রয়েছেন। কিন্তু তিনি সেখানে কীভাবে এলেন, তা নিয়ে ধন্দে ‘সিট’এর সদস্যরা। তাঁকে সেখান থেকেই অ্যাম্বুল্যান্সে তোলা হয়। ওই এলাকায় যাঁদের দোকান রয়েছে ও যাঁরা তাঁকে অ্যাম্বুল্যান্সে তুলে নিয়ে গিয়েছেন, তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জানা গিয়েছে। উল্লেখ্য


মইদুলের বিষয়ে তথ্য জানতে ডা. ফুয়াদ হালিমকে তলব করা হয়। ময়নাতদন্তে প্রাথমিকভাবে এমন কিছু পাওয়া যায়নি, যাতে প্রমাণ মেলে যে, লাঠির আঘাতে মৃত্যু হয়েছে ওই যুবনেতার। সেই কারণে কী কী অসুস্থতায় তিনি ভুগছিলেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গোয়েন্দাপ্রধানের অধীনে SIT এর সদস্যরা এই বিষয়গুলিও খতিয়ে দেখছেন। আর এই ব্যাপারে আরও কয়েকজনকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে পুলিশ সুত্রে খবর।







