ডিভিশন বেঞ্চে নাস্তানাবুদ পর্ষদ, অনিশ্চিত ৫৮ হাজার প্রাথমিক শিক্ষকের ভবিষ্যৎ।

ডিভিশন বেঞ্চে নাস্তানাবুদ পর্ষদ, অনিশ্চিত ৫৮ হাজার প্রাথমিক শিক্ষকের ভবিষ্যৎ।
Calcutta High court seeks answer from primary education council

নজরবন্দি ব্যুরোঃ আজ ডিভিশন বেঞ্চেও নাস্তানাবুদ হল পর্ষদ। এতদিন অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের সিঙ্গেল বেঞ্চ নিয়োগ নিয়ে একাধিক নির্দেশ জারি করেছে, চলছে সিবিআই তদন্ত। সেই সিবিআই তদন্তে স্থগিতাদেশ চেয়ে একটি মামলার শুনানি ছিল কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি সুব্রত তালুকদার এবং বিচারপতি লপিতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চে। সেখানেই পর্ষদকে কার্যত প্রশ্নবানে জর্জরিত করেন বিচারপতিরা।

আরও পড়ুনঃ SSC Scam: নজিরবিহীন দুর্নীতি ঢাকতে দ্রুত তৎপরতা, সভাপতির পাশাপাশি বদল আধিকারিকদের!

আদালতের কাছে অভিযোগ ছিল, ২৩ লক্ষ প্রার্থীর মধ্যে শুধুমাত্র ২৭৩ জনকে ওই বাড়তি নম্বর দেওয়া হয়েছিল। ডিভিশন বেঞ্চ প্রশ্ন করে, পর্ষদ কীসের ভিত্তিতে ওই ২৭৩ জনকে বেছে নিয়েছিল? বেঞ্চের পরের প্রশ্ন, প্রশ্ন ভুল থাকার জন্য যখন পরীক্ষার্থীদের বাড়তি ১ নম্বর দেওয়ার সিদ্ধান্ত হল, তখন তা সমস্ত পরীক্ষার্থীকে দেওয়া হয়নি কেন? এর যথাযত উত্তর দিতে পারেনি পর্ষদ।

আরও পড়ুনঃ কেন বঞ্চিতরা তাঁকে সংবিধানের বরপুত্র বলছেন? জানুন অভিজিৎ গাঙ্গুলির ৫ টি ঐতিহাসিক মন্তব্য

ডিভিশন বেঞ্চে নাস্তানাবুদ পর্ষদ, অনিশ্চিত ৫৮ হাজার প্রাথমিক শিক্ষকের ভবিষ্যৎ।
ডিভিশন বেঞ্চে নাস্তানাবুদ পর্ষদ, অনিশ্চিত ৫৮ হাজার প্রাথমিক শিক্ষকের ভবিষ্যৎ।

আদালতের কাছে অভিযোগ ছিল, ২৩ লক্ষ প্রার্থীর মধ্যে শুধুমাত্র ২৭৩ জনকে ওই বাড়তি নম্বর দেওয়া হয়েছিল। বাকিদের সেই নাম্বার দেওয়া হয়নি। কিন্তু কেন দেওয়া হয়নি তাঁর যথযত কোন উত্তর পাওয়া যায়নি। এই প্রসঙ্গেই পর্ষদ কে তুলোধনা করে হাই কোর্ট। ঠিক যেভাবে অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সিঙ্গেল বেঞ্চ নাস্তানাবুদ করেছিল পর্ষদ কে, ঠিক একই ভাবে ডিভিশন বেঞ্চেও মুখ পোড়াল পর্ষদ।

dddd

বিচারপতিরা পর্ষদের কাছে সরাসরি জানতে চান, ‘‘প্রশ্ন যদি ভুল থেকে থাকে তবে কৃতকার্য এবং অকৃতকার্য— সব প্রার্থীদেরই এক নম্বর করে বাড়ানো উচিত ছিল না কি? কেন এই বৈষম্য করা হয়েছে?’’ তখন পর্ষদের আইনজীবীরা বলেন, আইন মেনে শুধুমাত্র প্রশিক্ষিত প্রার্থীদেরই বাড়তি নম্বর দেওয়া হয়েছে। পালটা আদালত জানতে চায়,  কোথাও কি বলা হয়েছিল যাঁরা ওই প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন বা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন তাঁদেরই নম্বর দেওয়া হবে? এর জন্য আগে থেকে কোনও বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছিল কি? সেই প্রশ্নের উত্তর পর্ষদ দিতে পারেনি।

ডিভিশন বেঞ্চে নাস্তানাবুদ পর্ষদ, অনিশ্চিত ৫৮ হাজার প্রাথমিক শিক্ষকের ভবিষ্যৎ।

calcutta high court 6

এদিকে ২০১৪ সালের টেট পাশ পরিক্ষার্থী যারা চাকরি করছেন তাঁদের কাছ থেকে ডকুমেন্ট চেয়ে পাঠানো হয়েছে। সূত্রের খবর সব মিলিয়ে এই শিক্ষকদের সংখ্যা প্রায় সাড়ে ৫৮ হাজার। ওয়াকি বহাল মহলের প্রশ্ন, এখন কি তাহলে পুরোনো মেরিট লিস্ট বাদ দিয়ে আবার নতুন মেরিট লিস্ট তৈরী হবে ফ্রেস ভাবে। যেখানে সবাইকেই বাড়তি ১ নাম্বার দেওয়া হবে বা কাউকেই দেওয়া হবে না? তাহলে যারা এখন চাকরি করছেন তাঁদের চাকরি থাকবে তো!