সদ্য সমাপ্ত লোকসভা নির্বাচনে ঘাটাল কেন্দ্রে ছিল দুই তারকার ফাইট। একদিকে ছিলেন, তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী দীপক অধিকারী ওরফে দেব। উল্টোদিকে, বিজেপির প্রার্থী হিরণ চট্টোপাধ্যায়। অনেকদিন আগেই ভোটের ফলাফল প্রকাশ হয়েছে। তৃতীয়বারের জন্য ঘাটাল থেকে সাংসদ হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন দেব। কিন্তু বিতর্ক থামেনি। দেবের বিরুদ্ধে ভোটে কারচুপির অভিযোগ তোলেন বিজেপির হিরন। যা নিয়ে কলকাতা হাই কোর্টে মামলাও দায়ের হয়। বৃহস্পতিবার বিচারপতি বিভাস পট্টনায়ক সাফ জানিয়ে দিলেন, এই মামলায় সরাসরি যুক্ত করতে হবে দেবকে। ফলে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন, আগামী দিনে কি বিপদ হতে পারে দেবের?
লোকসভা নির্বাচনে একেবারেই আশানুরূপ ফল করতে পারেনি বিজেপি। গত নির্বাচনের জেতা ১৮টি আসন ধরে রাখতেই তাঁরা ব্যর্থ হয়েছে। প্রতিটি নির্বাচনের মতো এবারের লোকসভা নির্বাচনের পরেও ভোটে কারচুপির অভিযোগে সরব হতে দেখা যায় গেরুয়া শিবিরকে। ঘাটালের পাশাপাশি বসিরহাট, কোচবিহার, ডায়মন্ড হারবার এবং আরামবাগে ভোট লুট হয়েছে এইরকম অভিযোগ তুলে কলকাতা হাই কোর্টে আলাদা আলাদা করে মামলা দায়ের করেন বিজেপির পরাজিত প্রার্থীরা।


বিজেপির মূল দাবি ছিল, এই পাঁচটি কেন্দ্রে পুনর্নির্বাচন করা হোক। কিন্তু তা নিয়ে এখনও কলকাতা হাই কোর্ট কিছু চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। তবে হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতির টি এস শিবজ্ঞানম এই পাঁচটি মামলাকে পাঁচ জন আলাদা বিচারপতির বেঞ্চে পাঠিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। সেখানেই শুক্রবার বিচারপতি বিভাস পট্টনায়কের এজলাসে হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের দায়ের করা মামলার শুনানি হল। এই মামলায় দেবকে যুক্ত করার নির্দেশ দিলেন বিচারপতি। উল্লেখ্য, এর আগে বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের এজলাসে বসিরহাটের বিজেপি প্রার্থী রেখা পাত্রের দায়ের করা মামলার শুনানি হয়েছিল। সেই মামলা আবার ৪ সেপ্টেম্বর এজলাসে উঠবে।
রেখা পাত্রর মামলার শুনানিতে বিচারপতি কৃষ্ণা রাও ইভিএম, সিসিটিভি, ব্যালট, ডিভিআর সহ নির্বাচনে ব্যবহৃত সকল নথিপত্র সংরক্ষণের নির্দেশ দেন। সঙ্গে বসিরহাটের তৃণমূল তৃণমূল সাংসদ হাজী নুরুল ইসলাম এবং জাতীয় নির্বাচন কমিশনকে একটি নোটিশও দেয় কলকাতা হাই কোর্ট। ঠিক সেরকমই ঘাটালের ভোট কারচুপি মামলাতেও সমস্ত নির্বাচনী তথ্যকে সংরক্ষণের নির্দেশ দিলেন বিভাস পট্টনায়ক। এই মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ৬ সেপ্টেম্বর।







