ছ’মাসের দীর্ঘ আইনি টানাপোড়েনের পর অবশেষে মুক্তি পাচ্ছেন লাদাখের পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুক। কেন্দ্রীয় সরকার শনিবার জানাল, জাতীয় নিরাপত্তা আইনে (NSA) তাঁর বিরুদ্ধে জারি করা আটকের নির্দেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে। গত বছরের সেপ্টেম্বরে তাঁকে আটক করা হয়েছিল এবং তখন থেকেই তিনি রাজস্থানের জোধপুর জেলে বন্দি ছিলেন। সুপ্রিম কোর্টে এই আটক নিয়ে মামলা চলাকালীনই কেন্দ্র হঠাৎ সিদ্ধান্ত বদলে তাঁকে মুক্তি দেওয়ার ঘোষণা করল।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, লাদাখে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য। সেই কারণেই প্রথমে তাঁকে আটক করা হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে সরকার মনে করছে, বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে গঠনমূলক আলোচনা এগিয়ে নিতে এই আটকের আদেশ প্রত্যাহার করা প্রয়োজন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, লাদাখে পারস্পরিক সমঝোতা এবং স্থিতিশীল পরিবেশ বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। শান্তিপূর্ণ সমাজে অস্থিরতা বা বিক্ষোভ পরিস্থিতি তৈরি হলে তা পর্যটন, শিক্ষা এবং কর্মসংস্থানের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান খুঁজতে চায় কেন্দ্র।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর সোনম ওয়াংচুককে আটক করা হয়েছিল। তখন অভিযোগ করা হয়, তিনি লাদাখে অশান্তি উসকে দেওয়ার চেষ্টা করছেন। তবে তাঁর পরিবার এবং সমর্থকদের দাবি ছিল, এই অভিযোগ ভিত্তিহীন এবং তাঁর বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
সোনমের আটককে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেন তাঁর স্ত্রী। তাঁদের হয়ে আদালতে সওয়াল করেন প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিব্বল। মামলার শুনানিতে কেন্দ্রীয় সরকার দাবি করেছিল, ওয়াংচুক তরুণ প্রজন্মকে সংগঠিত করে বড় আকারের বিক্ষোভ গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন। যদিও শেষ পর্যন্ত সেই মামলার মধ্যেই তাঁর বিরুদ্ধে জারি করা আটকাদেশ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয় কেন্দ্র।
এই সিদ্ধান্তের ফলে প্রায় ছ’মাস পর মুক্তি পাচ্ছেন লাদাখের এই পরিচিত পরিবেশকর্মী। তাঁর মুক্তি ঘিরে ইতিমধ্যেই লাদাখে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।



