নজরবন্দি ব্যুরোঃ আল-কায়দার বিচরণ ক্ষেত্র বাংলা! এভাবেই বেনজির মন্তব্য করে বসলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়। এদিন রাজ্যপাল বলেন “আমরা কি পেয়েছি বাংলায়? এখানে আল কায়দার ফ্ল্যাগ উড়ে বেড়াচ্ছে। সাধারণ মানুষ গ্রেফতার হচ্ছেন। আমাদের এখানে আছে বোম তৈরির কারখানা। যে কোন অনুষ্ঠানে নির্বিচারে বোমাবাজি চলে। এখানে বোমা অ্যাম্বুলেন্সে করে বয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।”
আরও পড়ুনঃ বাংলা-য় শক্তি হারাচ্ছে করোনা। সুস্থতার হার পেরিয়ে গেল ৮৮ শতাংশ।


তাঁর কথায় রাজ্যে কোন আইন শৃঙ্খলা নেই। রাজ্যপাল এদিন সিনিয়ার আইপিএস, আইএএস আধিকারিকদেরও নিশানা করতে ছাড়েন নি। নাম না করে সুরজিৎ কর পুরকায়স্থ কে নিশানা করে তিনি বলেন, “আমাদের একজন অবসর প্রাপ্ত ডিজিপি রাজ্যের সিকিওরিটি ইনচার্জ হয়ে বসে রয়েছেন। কি করছেন তিনি? তিনি কি রাজনৈতিক কাজ করার জন্যে পদে বসে রয়েছেন বলেও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
এদিকে আজ বিজেপি নেতা তথা দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর সাথে দেখা করে রাজ্যের বিরুদ্ধে একগুচ্ছ অভিযোগ করেছেন রাজ্যপাল। অমিত শাহর সাথে বৈঠকের পর রাজ্যপাল সাংবাদিকদের বলেন, বাংলায় আইন শৃঙ্খলা ভেঙ্গে পড়েছে। মুখ্যমন্ত্রী পুলিশ দিয়ে শাসন চালাচ্ছেন। পুলিশ এবং আমলারা দলের অনুগত হয়ে কাজ করছেন। পশ্চিমবঙ্গে দু’বেলা খুন, রাজনৈতিক হিংসা এবং বোমাবাজি হচ্ছে। অমিত শাহকে তাঁর অভিযোগ, যা পরিস্থিতি তাতে রাজ্যে ভোট করানোই কঠিন।
আল-কায়দার বিচরণ ক্ষেত্র বাংলা! রাজ্যপালের এই বাংলা বিদ্বেষী মন্তব্য নিয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে প্রদেশ কংগ্রেস। সোমেন পুত্র তথা পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির সাধারণ সম্পাদক রোহন মিত্র জানিয়েছেন, “পশ্চিমবঙ্গের মহামান্য রাজ্যপাল টুইট করে প্রকারান্তরে আমাদের রাজ্যকে আল কায়দার বিচরণ ভূমি বলতে চেয়েছেন।এটা আপামর বাঙালি জাতির পক্ষেই অত্যন্ত অপমানজনক বার্তা বহন করে আনে। রাজ্য সরকার আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় ব্যর্থ,কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকারও তার দায় এ বিষয়ে এড়িয়ে যেতে পারে না।


জঙ্গীবাদ ও সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় মুখে বড় বড় কথা বললেও, সেই কাজের জন্য আন্তর্জাতিক এবং আন্তঃরাজ্য সীমানা সিল করার ব্যাপারে এখনো পর্যন্ত কেন্দ্রীয় সরকার কোন ইতিবাচক পদক্ষেপ কেন নিতে পারলো না। নরেন্দ্র মোদী বলেছিলেন, নোটবন্দী নাকি সন্ত্রাসবাদকে খতম করবে! মাননীয় রাজ্যপালের এই বিষয়গুলিও নজর দেওয়া প্রয়োজন, তা না করে ঠারেঠোরে বাংলার সম্মান এবং বাঙালি অস্মিতাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে আঘাত করার অপচেষ্টাকে বাংলা ও বাঙালি কখনোই সমর্থন করবেনা।”







