ভোটের আগে সামাজিক সুরক্ষার জাল আরও বিস্তৃত করল রাজ্য সরকার। এতদিন যাঁরা সরকারি কোনও স্বাস্থ্য সুরক্ষার আওতায় ছিলেন না—ফুড ডেলিভারি বয়, ক্যাব ও বাইক চালক, অ্যাপ-নির্ভর কাজ করা লক্ষ লক্ষ গিগ কর্মী—এবার তাঁরাও সরাসরি স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের সুবিধা পাবেন। অন্তর্বর্তী বাজেটে এই ঘোষণা করে গিগ ইকোনমির কর্মীদের জন্য বড় স্বস্তির বার্তা দিল নবান্ন।
রাজ্য সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী, এবার থেকে গিগ ওয়ার্কাররাও স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের মাধ্যমে চিকিৎসার সুবিধা পাবেন। স্বাস্থ্য সংক্রান্ত যে কোনও সমস্যায় সরকারি ও প্যানেলভুক্ত বেসরকারি হাসপাতালে ক্যাশলেস চিকিৎসার সুযোগ মিলবে।


কারা এই সুবিধার আওতায় আসবেন?
এই সিদ্ধান্তের ফলে স্বাস্থ্যসাথীর আওতায় আসছেন—
-
ফুড ডেলিভারি কর্মী
-
অ্যাপ-ক্যাব ও অ্যাপ-বাইক চালক
-
গিগ ইকোনমির সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য কর্মী
-
অসংগঠিত ক্ষেত্রের বহু শ্রমজীবী মানুষ
রাজ্য প্রশাসনের মতে, সামাজিক সুরক্ষাহীন এই কর্মীদের জন্য এটি এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ।
কীভাবে মিলবে স্বাস্থ্যসাথীর সুবিধা?
নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে—
-
গিগ কর্মীদের জন্য আলাদা একটি অনলাইন পোর্টাল খোলা হবে
-
সেখানে আবেদন করতে পারবেন গিগ ওয়ার্কাররা
-
আবেদন যাচাই (ভেরিফিকেশন) সম্পন্ন হলে
-
তাঁদের জন্য ইস্যু করা হবে স্বাস্থ্যসাথী কার্ড
শুধু চিকিৎসা নয়, গিগ কর্মী বা তাঁর পরিবারের জন্য একাধিক এককালীন আর্থিক সুবিধাও এই প্রকল্পের মাধ্যমে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা
বাজেট পেশের পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন,
“গিগ ওয়ার্কারদের কোনও সামাজিক সুরক্ষা নেই। তাই আমরা আলাদা পোর্টাল খুলছি। সেখানে আবেদন হবে, সার্ভে করা হবে। কেউ অসুস্থ হলে বা মারা গেলে তাঁর পরিবার যাতে সাহায্য পায়, সেই ব্যবস্থাই করছি।”
বর্তমানে রাজ্যের প্রায় প্রতিটি পরিবারের সদস্যই স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের আওতায় রয়েছেন। এবার আলাদা করে গিগ কর্মীদের অন্তর্ভুক্ত করে সেই সুরক্ষাবলয় আরও বড় করা হল।
ভোটের আগে ‘কল্পতরু’ বাজেট
বৃহস্পতিবার অন্তর্বর্তী বাজেট পেশ করেন অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। এটি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃতীয় তৃণমূল সরকারের শেষ বাজেট। নতুন সরকার গঠনের পর পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ হবে।
তার আগেই এই বাজেটে—
-
গিগ কর্মীদের স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষা
-
বেকার যুবসমাজের জন্য নতুন প্রকল্প
-
লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের ভাতা বৃদ্ধি
সহ একাধিক জনমুখী ঘোষণা করে কার্যত ‘কল্পতরু’ হয়ে উঠল রাজ্য সরকার—এমনটাই মত রাজনৈতিক মহলের।









