‘এখনও লক্ষ্যে পৌঁছইনি’, T20 বিশ্বকাপের আগে সাফ বার্তা গৌতম গম্ভীরের

অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে সিরিজ জিতলেও ভারতীয় দলের খেলা এখনও কাঙ্খিত মানে নয় বলে জানালেন হেড কোচ গৌতম গম্ভীর। স্পষ্ট বার্তা— T20 World Cup-এর আগে দরকার আত্মসমালোচনা ও শৃঙ্খলা।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে ভারতীয় দল এখনও কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছতে পারেনি, স্পষ্ট জানালেন হেড কোচ গৌতম গম্ভীর। অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে সদ্য সমাপ্ত সিরিজে ২-১ ব্যবধানে জয় পেলেও দলের সামগ্রিক পারফরম্যান্স নিয়ে তিনি সন্তুষ্ট নন। হাতে মাত্র তিন মাস সময়, আর এই সময়ে নিজেদের ভুল শুধরে নেওয়াই মূল লক্ষ্য বলে জানালেন গম্ভীর।

তিনি বলেন, “টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে আমরা এখনও সেই জায়গায় পৌঁছইনি যেখানে পৌঁছতে চাই। এখনই সময় নিজের সেরাটা দেওয়া এবং টিম স্ট্র্যাটেজির সঙ্গে পুরোপুরি মানিয়ে নেওয়ার। হাতে মাত্র তিন মাস সময়।

অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে সিরিজে ভারত জয় পেলেও সামনে এসেছে অনেক প্রশ্ন। ব্যাটিং অর্ডারে তিন নম্বর পজিশন, পেস অ্যাটাকে বুমরাহর সঙ্গী কে হবেন, কিংবা ডেথ ওভারে বোলিং কেমন হবে— এসব নিয়েই এখনো ধোঁয়াশা। গম্ভীরের মতে, এই অনিশ্চয়তা কাটিয়ে উঠতেই এখন সবচেয়ে বেশি দরকার স্পষ্ট পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন।

বরাবরই তাঁর ‘নো-ননসেন্স’ কোচিং স্টাইলের জন্য পরিচিত গৌতম গম্ভীর। তিনি বিশ্বাস করেন, দলের স্বার্থে প্রয়োজনে বড় তারকাকেও বাদ দিতে হলে তাতে আপত্তি নেই। তাই বিশ্বকাপের আগে তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে ক্রিকেটমহলে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা।

সম্প্রতি BCCI-এর অফিসিয়াল হ্যান্ডল থেকে প্রকাশিত একটি ভিডিও টিজারে দেখা যায়, গম্ভীর দলের হার নিয়ে কোনও অজুহাত মানতে রাজি নন। তাঁর বক্তব্য, “হার কখনও মেনে নেওয়া উচিত নয়— না ব্যক্তি হিসেবে, না দল হিসেবে। হার থেকে শিক্ষা নিতে হয়, কিন্তু সেটাকে অজুহাত করা চলবে না।”

গম্ভীরের বিশ্বাস, কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি না হলে প্রকৃত দক্ষতা ফুটে ওঠে না। উদাহরণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেছেন শুবমান গিলের নাম। গম্ভীর বলেন, “ওদের গভীর জলে ফেলতে হবে। ওরা তখনই বুঝবে কীভাবে ভেসে থাকতে হয়। শুবমানকে টেস্ট দলের অধিনায়ক করার সিদ্ধান্তও সেই কারণেই নেওয়া হয়েছে।”

এই মন্তব্যে অনেকেই মনে করছেন, গম্ভীর দলের তরুণদের সামনে স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছেন— বিশ্বকাপ দলে জায়গা পেতে হলে নিজেকে প্রমাণ করতে হবে কঠিন প্রতিযোগিতায়।

তবে দলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে জল্পনাও উড়িয়ে দিয়েছেন গম্ভীর। তাঁর দাবি, “আমাদের ড্রেসিংরুমে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা আছে এবং সেটা বজায় থাকবেই। ভারতীয় ক্রিকেট এখন এমন এক পর্যায়ে, যেখানে সততা ও নিষ্ঠাই সবচেয়ে বড় শক্তি।”

বিশেষজ্ঞদের মতে, গম্ভীরের এই বক্তব্যে স্পষ্ট, তিনি দলের মধ্যে একটি প্রতিযোগিতামূলক, শৃঙ্খলাপূর্ণ এবং ফোকাসড পরিবেশ তৈরি করতে চাইছেন। তাঁর নেতৃত্বে ভারতীয় দল আরও আক্রমণাত্মক ও মানসিকভাবে দৃঢ় হয়ে উঠবে বলে আশা করছেন অনেকেই।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৫-এর আগে তাই ভারতীয় দলের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ— ধারাবাহিকতা ও দলীয় ভারসাম্য তৈরি করা। গম্ভীরের মতে, এখনই সময় আত্মসমালোচনা, পরিকল্পনা ও প্রয়োগের মধ্যে নিখুঁত সামঞ্জস্য আনার। তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, “অজুহাত নয়, এবার দরকার জয়ের মানসিকতা।”

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত