গড়িয়ায় লিভ-ইন পার্টনারকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানোর অভিযোগ! খুনের ঘটনায় গ্রেপ্তার প্রেমিকা ও তাঁর মা

কলকাতার গড়িয়ার ফরতাবাদে লিভ-ইন পার্টনার সার্থক সরকারকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে খুনের অভিযোগ উঠেছে সঞ্চালিকা বসুর বিরুদ্ধে। ঘটনায় তরুণী ও তাঁর মা মৌমিতা বসুকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

কালীপুজোর আগের রাতে কলকাতার গড়িয়ায় লিভ-ইন সম্পর্ককে কেন্দ্র করে যুবককে খুনের অভিযোগ উঠল তাঁর প্রেমিকার বিরুদ্ধে। ধারালো অস্ত্র দিয়ে ঘাড়ে আঘাত করে সার্থক সরকার নামে ওই যুবককে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় তাঁর লিভ-ইন পার্টনার সঞ্চালিকা বসুকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পাশাপাশি, খুনের ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে তরুণীর মা মৌমিতা বসুকেও আটক করে পরে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কী কারণে এই ঘটনা, তার নেপথ্যে শুধুই সম্পর্কের টানাপোড়েন, নাকি অন্য কোনও বিবাদ ছিল, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত সার্থক সরকারের বাড়ি উত্তর ২৪ পরগনার বারাসতে। গড়িয়ার ফরতাবাদ এলাকায় একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে সঞ্চালিকা বসুর সঙ্গে থাকতেন তিনি। দু’জনের মধ্যে মাঝেমধ্যেই অশান্তি হত বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। শনিবার রাতেও তাঁদের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। অভিযোগ, সেই সময় ধারালো ছুরি দিয়ে সার্থকের ঘাড়ে আঘাত করেন সঞ্চালিকা।

- Advertisement -

আঘাতের পর রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন যুবক। ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু চিকিৎসকেরা পরীক্ষা করে তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। খবর দেওয়া হয় পুলিশকে। এরপরই গড়িয়া থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে।

ঘটনাস্থল এবং হাসপাতাল—দুই জায়গাতেই তদন্তকারীরা প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করেন। মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি, যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে সার্থককে আঘাত করা হয়েছিল বলে অভিযোগ, সেটিও উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি জানতে ফ্ল্যাটের আশপাশের বাসিন্দাদের সঙ্গেও কথা বলছেন তদন্তকারীরা।

খুনের অভিযোগে গ্রেপ্তার প্রেমিকা, সন্দেহের তালিকায় মাও

সার্থক সরকারের মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর লিভ-ইন পার্টনার সঞ্চালিকা বসুকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পাশাপাশি, এই ঘটনায় তরুণীর মা মৌমিতা বসুর ভূমিকা নিয়েও সন্দেহ তৈরি হয়েছে তদন্তকারীদের। সেই সূত্রে তাঁকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, সার্থক ও সঞ্চালিকার মধ্যে প্রায়ই ঝামেলা হত। তবে শনিবার রাতের বিবাদ ঠিক কী কারণে শুরু হয়েছিল, তা এখনও পরিষ্কার নয়। অশান্তির জেরেই কি এই ঘটনা, নাকি এর পিছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে, তা জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।

- Advertisement -

কী ভূমিকা ছিল তরুণীর মায়ের? তদন্ত পুলিশের

এই ঘটনায় সঞ্চালিকার মায়ের ভূমিকা ঠিক কী ছিল, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। ঘটনার সময় তিনি ফ্ল্যাটে উপস্থিত ছিলেন কি না, সার্থককে আঘাত করার ঘটনায় তাঁর কোনও প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভূমিকা ছিল কি না, সেই বিষয়গুলিও তদন্তের আওতায় রয়েছে। ধৃত দু’জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।

ইতিমধ্যেই সার্থকের পরিবারের সদস্যদের খবর পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ থেকে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও ঘটনার ধারাবাহিকতা সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়া যেতে পারে। আপাতত গড়িয়ার এই ঘটনায় সম্পর্কের টানাপোড়েনের অভিযোগকে সামনে রেখেই তদন্ত এগোচ্ছে। তবে পুলিশের তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত খুনের প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

সদ্য প্রকাশিত

এই ক্যাটেগরির আরও খবর