স্বামী বিবেকানন্দের (Swami Vivekananda) ছবি দেওয়া পোস্টারে ‘ধর্ষক’ শব্দ লেখা এবং অন্যান্য ছাত্র সংগঠন সম্পর্কে অশালীন ভাষা ব্যবহারের অভিযোগে কড়া পদক্ষেপ করল প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয় (Presidency University)। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুই পড়ুয়াকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। শুধু তাই নয়, ভবিষ্যতে প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনও ডিগ্রি কোর্সেও তাঁদের আর ভর্তি নেওয়া হবে না বলে জানানো হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্ত ঘিরে শিক্ষামহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। কর্তৃপক্ষের দাবি, ঘটনার তদন্তে সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হয়েছে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পক্ষের বক্তব্যও শুনেছে তদন্ত কমিটি। সমস্ত তথ্য ও বক্তব্য পর্যালোচনার পর দুই পড়ুয়ার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশিত বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, পোস্টার বিতর্কের ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। তদন্তের সময় ক্যাম্পাসের সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের বক্তব্য নেওয়া হয়।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই ঘটনায় দুই পড়ুয়ার যোগ থাকার বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছে কমিটি। এরপরই তাঁদের বহিষ্কার এবং ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনও ডিগ্রি কোর্সে ভর্তি না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সিদ্ধান্তকে স্বাগত উচ্চশিক্ষামন্ত্রীর
বিশ্ববিদ্যালয়ের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন রাজ্যের উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। ‘সংবাদ প্রতিদিন’-কে দেওয়া বক্তব্যে তিনি জানান, স্বামী বিবেকানন্দের ছবিতে আপত্তিকর শব্দ লেখার ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির নির্দেশ উচ্চশিক্ষা দপ্তরের তরফে আগেই দেওয়া হয়েছিল।
মন্ত্রী দাবি করেন, সেই নির্দেশিকা মেনেই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তদন্ত করেছে। তদন্তে প্রমাণ পাওয়ার পরই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। স্বামীজির অপমান কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না বলেও স্পষ্ট জানিয়েছেন তিনি।
মতাদর্শের বিরোধ থাকলেও অশালীনতা বরদাস্ত নয়, বার্তা বিশ্ববিদ্যালয়ের
এই ঘটনার পর নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও। তাদের বক্তব্য, বিশ্ববিদ্যালয় বরাবরই মর্যাদাপূর্ণ শিক্ষার পরিবেশ, যুক্তিনির্ভর আলোচনা এবং বৈজ্ঞানিক ও সামাজিক-রাজনৈতিক বিষয়ে সুস্থ বিতর্কের পক্ষে।
কর্তৃপক্ষের মতে, শিক্ষাঙ্গনে মতাদর্শগত বিরোধ বা মতপার্থক্য থাকতেই পারে। কিন্তু সেই বিরোধের প্রকাশ কোনও মনীষী, চিন্তাবিদ কিংবা সংগঠনকে নিয়ে অশালীন মন্তব্য বা কুরুচিকর আচরণের মাধ্যমে হতে পারে না।
শিক্ষাঙ্গনে শালীনতা, পারস্পরিক সম্মান এবং সুস্থ বিতর্কের পরিবেশ বজায় রাখতেই এই পদক্ষেপ বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়। প্রেসিডেন্সির এই সিদ্ধান্তের পর ক্যাম্পাসে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ছাত্ররাজনীতি এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা বজায় রাখার প্রশ্নও নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে।



