সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেন ফুয়াদ হালিম। কাজে এলো হাজারো গরিবের প্রার্থনা।

সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেন ফুয়াদ হালিম। কাজে এলো হাজারো গরিবের প্রার্থনা।

নজরবন্দি ব্যুরোঃ সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেন ফুয়াদ হালিম। কাজে এলো হাজারো গরিবের প্রার্থনা। ভাল আছেন ফুয়াদ হালিম। আজ রবিবার বিকেলে বেলভিউ হাসপাতাল থেকে তাঁকে ছুটি দেওয়া হয়। আসলে এই চিকিৎসক নেতা এক কথায় গরীবের ডাক্তার। হাসপাতাল সূত্রে খবর করোনা তে আক্রান্ত হওয়ার পাশাপাশি ফুয়াদ হালিমের ফুসফুসে রক্ত জমাট বেঁধে সমস্যা তৈরি হয়েছিল! তাই আইসিইউ তে রেখে চিকিৎসা চলছিল তাঁর। এখন তিনি বিপদমুক্ত।

আরও পড়ুনঃ একাদশ-দ্বাদশকে ব্রাত্য রেখেই নবম-দশমে এসএমএস এর মাধ্যমে নিয়োগ!

উল্লেখ্য, গত বুধবার ফুয়াদ হালিমের স্ত্রী সাইরা হালিম প্রথমে ট্যুইট ফুয়াদ হালিমের অসুস্থতার খবর প্রকাশ্যে আনেন। করোনা কালে কোন কিছুর পরোয়া না করে রোগীদের সেবায় নিয়োজিত ছিলেন তিনি। প্রয়াত স্পিকার হাসিম আব্দুল হালিমের পুত্র ফুয়াদ হালিম করোনার সংকটের মধ্যে তাঁর তৈরি ‘কলকাতা স্বাস্থ্য সংকল্প’-এ দুঃস্থ মানুষদের জন্য মাত্র ৫০ টাকায় ডায়ালিসিসের ব্যবস্থা করেছিলেন। বেশিরভাগ ডায়ালিসিস কেন্দ্র যখন বন্ধ ছিল, তখন মাত্র ৫০ টাকায় গত ২৬ শে মার্চ থেকে ৩০ শে জুন পর্যন্ত তাঁর হাসপাতালে ২,৩৫৭ জনের ডায়ালিসিস করা হয়েছিল।

গত ২১ জুলাই অসুস্থ হয়ে পড়েন হালিম সাহেব। প্রথমে হোম আইসোলেশনে ছিলেন। এরপর শ্বাসকষ্ট বাড়তে থাকায় ভরতি হন মধ্য কলকাতার বেসরকারি হাসপাতালে।সেখানে তাঁর ২বার করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট নেগেটিভ হলেও তৃতীয় বার তা পজিটিভ আসে। শ্বাসকষ্টও কমছিল না, ফুসফুসে সংক্রমণ দেখা দেয়। তাই তাঁকে আইসিইউ-তে স্থানান্তরিত করা হয়। আর সুস্থ হয়ে তাঁর প্রথম মনে পরে তাঁর দায়িত্বের কথা। কারণ তিনি সবার আগে একজন ডাক্তার। তাই শনিবার হাসপাতাল থেকেই ফেসবুকে পোস্ট করে জানিয়ে দেন, আগের মতো এখনও তাঁর সংস্থায় ডায়ালিসিস চলবে সেই স্বল্পমূল্যেই। এর কোনও ব্যতিক্রম হবে না।  

উল্লেখ্য লকডাউন পরবর্তী সময় একজন মানুষও ফেরেন নি তাঁর হাসপাতাল ‘স্বাস্থ্য সংকল্প’ থেকে। লকডাউনের সময়ে হাজার হাজার গরীব, অর্থকষ্টে ভোগা রুগি দেখেছেন ফুয়াদ। ভারতের মধ্যে একমাত্র তাঁর হাসপাতালেই হয়েছে মাত্র পঞ্চাশ টাকার বিনিময়ে ডায়ালিসিস। একদিকে করোনা সংক্রমণ অন্যদিকে ফুসফুসে রক্ত জমাট বেঁধে যাওয়ায় ফুয়াদের স্বাস্থ্য নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছিলেন চিকিৎসকরা। কিন্তু সব বাঁধা পেরিয়ে সুস্থ হয়েছেন তিনি। হাজারো গরীবের প্রার্থনা বিফলে যায়নি।

অন্যদিকে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত আরও ২ জন সিপিআইএম নেতা শ্যামল চক্রবর্তী এবং অনাদি সাহু এখনও চিকিৎসাধীন। সিটু নেতা অনাদি সাহু মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি রয়েছেন। এই সংক্রমণের জেরে আলিমুদ্দিন স্ট্রিটের রাজ্য দফতরে সিপিআইএম অবাধ প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। উল্লেখ্য এই পার্টি অফিসেই বর্ষীয়ান নেতা তথা বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু থাকেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *