ফলতা বিধানসভার পুনর্নির্বাচনের আগে বড় রাজনৈতিক মোড়। ভোটের মাত্র ৪৮ ঘণ্টা আগে কার্যত নির্বাচনী লড়াই থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা করলেন তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান ওরফে ‘পুষ্পা’। তাঁর এই সিদ্ধান্তের পর ফলতার লড়াই এখন সরাসরি বিজেপি এবং বামফ্রন্টের মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
মঙ্গলবার সকালে সাংবাদিক বৈঠকে জাহাঙ্গির জানান, তিনি আর ভোটের প্রচারে থাকছেন না। যদিও মনোনয়ন প্রত্যাহারের সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ায় ইভিএমে তাঁর নাম থাকছে। তবে রাজনৈতিক বার্তা স্পষ্ট—ফলতার ময়দান থেকে নিজেকে সরিয়ে নিচ্ছেন তিনি।


এই পরিস্থিতিতে ফলতা বিধানসভায় মূল লড়াই দাঁড়াল বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পণ্ডা এবং বামফ্রন্ট মনোনীত, আইএসএফ সমর্থিত সিপিআই(এম) প্রার্থী শম্ভু কূর্মীর মধ্যে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, তৃণমূলের কার্যত নিষ্ক্রিয় অবস্থান ভোটের অঙ্কে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
ফলতা জুড়ে বিজেপি প্রার্থীর ব্যানার পোস্টারের পাশাপাশি উঁকি দিচ্ছে সিপিআইএম প্রার্থী শম্ভু কূর্মীর পোস্টার! নেই তৃণমূল

সাংবাদিক বৈঠকে জাহাঙ্গির বলেন, “আমি ফলতার মানুষ। চাই ফলতা শান্তিতে থাকুক, উন্নয়ন হোক। সেই কারণেই এই সিদ্ধান্ত।” যদিও দলের শীর্ষ নেতৃত্বের কোনও নির্দেশ ছিল কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট কিছু বলেননি তিনি।
উল্লেখ্য, গত ২৯ এপ্রিল ভোটের দিন ফলতার একাধিক বুথে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। ইভিএমে কালি, আতর এবং টেপ লাগানোর অভিযোগ সামনে আসে। এরপর পুনর্নির্বাচনের দাবি তোলে বিজেপি। পরে নির্বাচন কমিশন ফলতায় ফের ভোটের সিদ্ধান্ত নেয়।


ঘটনাক্রমে, ভোটের পর থেকেই জাহাঙ্গিরকে ফলতায় সক্রিয় প্রচারে দেখা যায়নি। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় শেষ দফার আগে তাঁর হয়ে প্রচার করলেও পুনর্নির্বাচনের প্রচারে তৃণমূলের প্রথম সারির কোনও নেতাকে মাঠে নামতে দেখা যায়নি।
এদিকে মঙ্গলবার ফলতায় বিজেপির রোড শো ঘিরে গেরুয়া শিবিরে ছিল উচ্ছ্বাস। জাহাঙ্গিরের ঘোষণার পর রাজনৈতিক সমীকরণ আরও বদলেছে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। এখন নজর ২১ মে-র ভোটে—শেষ পর্যন্ত ফলতার মানুষ কাকে বেছে নেন, সেটাই দেখার।









