কঙ্গোয় ১১৮ মৃত্যু, WHO-র সতর্কতার পর ভারতে জরুরি নজরদারি শুরু

কঙ্গো ও উগান্ডায় বাড়ছে ইবোলা সংক্রমণ। WHO আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা ঘোষণার পর ভারতেও বিমানবন্দর ও সীমান্তে কড়া নজরদারি শুরু।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

মধ্য আফ্রিকায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে ইবোলা সংক্রমণ। পরিস্থিতির ভয়াবহতা দেখে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা WHO আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে। কঙ্গো ও উগান্ডায় একের পর এক মৃত্যুর ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছে বিশ্বজুড়ে। এরই মধ্যে সতর্ক হয়েছে ভারতও। বিমানবন্দর, সমুদ্রবন্দর ও সীমান্তে কড়া নজরদারি শুরু করেছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক।

স্বাস্থ্য মন্ত্রক সূত্রে খবর, আফ্রিকার সংক্রমিত অঞ্চল থেকে আসা যাত্রীদের জন্য বিশেষ স্ক্রিনিং চালু করা হয়েছে। জ্বর, বমি, ডায়রিয়া বা রক্তক্ষরণের মতো উপসর্গ থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আলাদা পর্যবেক্ষণে রাখা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক যাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষায় বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়াও দেশের একাধিক উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ভাইরোলজি ল্যাবকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সন্দেহভাজন নমুনা দ্রুত পরীক্ষা করার জন্য জারি হয়েছে বিশেষ নির্দেশিকা। হাসপাতালগুলিকেও সতর্ক করা হয়েছে যাতে কোনও সন্দেহজনক রোগী ধরা পড়লে দ্রুত আইসোলেশন ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করা যায়।

চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে কঙ্গো এবং উগান্ডাতেই সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলেছে ইবোলা। রিপোর্ট অনুযায়ী, কঙ্গোর ইতুরি ও উত্তর কিভু প্রদেশে ৩০০-র বেশি সন্দেহভাজন সংক্রমণের ঘটনা সামনে এসেছে। ইতিমধ্যেই সেখানে ১১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। উগান্ডাতেও দু’জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে।

কঙ্গোর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ বায়ো-মেডিক্যাল রিসার্চ-এর চিকিৎসক জিন-জ্যাকুইস মুয়েমবে জানিয়েছেন, ইতুরি প্রদেশের রাজধানী বুনিয়ায় এক মার্কিন চিকিৎসকের শরীরে ইবোলার সংক্রমণ ধরা পড়েছে। এরপরই WHO আন্তর্জাতিক সতর্কতা জারি করে।

বিশেষজ্ঞরা অবশ্য জানাচ্ছেন, ইবোলা অত্যন্ত প্রাণঘাতী হলেও এটি কোভিড-১৯-এর মতো বাতাসে দ্রুত ছড়ায় না। আক্রান্ত ব্যক্তির রক্ত, ঘাম বা অন্যান্য শারীরিক তরলের সংস্পর্শে এলে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। তাই আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন ও সতর্ক থাকাই সবচেয়ে জরুরি।

ভারতের স্বাস্থ্য কর্তাদের বক্তব্য, এখনও পর্যন্ত দেশে কোনও ইবোলা আক্রান্তের খবর নেই। তবুও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে ‘অতিরিক্ত সতর্কতা’ নীতি গ্রহণ করেছে কেন্দ্র। রাজ্য সরকারগুলির সঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে, যাতে প্রয়োজনে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়।

বিশ্বজুড়ে নতুন করে সংক্রমণ আতঙ্কের আবহে ইবোলা পরিস্থিতি নিয়ে নজরদারি আরও বাড়াচ্ছে স্বাস্থ্য সংস্থাগুলি। বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত শনাক্তকরণ ও নিয়ন্ত্রণই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News
-Advertisement-

এই ধরনের আরও খবর

সদ্য প্রকাশিত