ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটে অনিয়মের অভিযোগে বড় প্রশাসনিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত মিলল। ২৯ এপ্রিলের ভোট ঘিরে ওঠা একাধিক অভিযোগ খতিয়ে দেখে নির্বাচন কমিশন গোটা কেন্দ্রেই পুনর্নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আগামী ২১ মে হবে নতুন করে ভোটগ্রহণ, আর ফল ঘোষণা হবে ২৪ মে। তার আগেই বিতর্কিত ৬০টি বুথকে কেন্দ্র করে ২৪২ জন নির্বাচনী আধিকারিকের বিরুদ্ধে রিপোর্ট জমা পড়েছে, যা প্রশাসনিক মহলে তীব্র আলোড়ন তৈরি করেছে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, এই ৬০টি বুথে দায়িত্বে থাকা ফার্স্ট, সেকেন্ড ও থার্ড পোলিং অফিসার থেকে শুরু করে প্রিসাইডিং অফিসার, রিটার্নিং অফিসার ও অবজারভার—সব মিলিয়ে ২৪২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলা নির্বাচনী আধিকারিক ও বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্ত কমিশনের কাছে এই রিপোর্ট জমা দিয়েছেন। অভিযোগের মধ্যে রয়েছে কর্তব্যে গাফিলতি, অভিযোগ উপেক্ষা এবং সময়মতো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নেওয়া।
ঘটনার সূত্রপাত ভোটের দিনই। ফলতার একাধিক বুথে ইভিএমে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের প্রতীকের উপর টেপ লাগানোর অভিযোগ সামনে আসে, যা ঘিরে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়। রিটার্নিং অফিসার বিষয়টি স্বীকার করলেও কেন সঙ্গে সঙ্গে পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। জানা গিয়েছে, যখন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তর প্রথম এই বিষয়টি জানতে পারে, তখন ভোটের হার ছিল ৩৮ শতাংশ। কিন্তু কার্যকর ব্যবস্থা নিতে নিতে সেই হার বেড়ে দাঁড়ায় ৬২ শতাংশে—যা প্রশাসনিক তৎপরতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে ইতিমধ্যেই কমিশনের শীর্ষ আধিকারিকরা কলকাতায় বসে সংশ্লিষ্ট বুথগুলির ওয়েবকাস্টিং ফুটেজ খতিয়ে দেখছেন। বুথভিত্তিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে কোথায় কী ধরনের অনিয়ম হয়েছে, তা খুঁটিয়ে দেখা হচ্ছে। সূত্রের খবর, রিপোর্টে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা—সাসপেনশন থেকে চাকরি বাতিল পর্যন্ত—নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।
এদিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে থাকা পুলিশ পর্যবেক্ষক অজয়পাল শর্মা–র ভূমিকাও প্রশ্নের মুখে। তাঁকে ‘সিংঘম’ খ্যাত দুঁদে আইপিএস অফিসার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হলেও, অভিযোগ উঠেছে যে ভোটের দিন তাঁর সক্রিয় উপস্থিতি সত্ত্বেও অনিয়ম রোখা যায়নি। এই ঘটনায় রাজনৈতিক চাপানউতোরও তুঙ্গে উঠেছে।
সব মিলিয়ে, ফলতা-কাণ্ড এখন শুধুই একটি কেন্দ্রের সীমায় আটকে নেই—এটি রাজ্যের নির্বাচনী প্রক্রিয়া এবং প্রশাসনিক দায়বদ্ধতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।



