নজরবন্দি ব্যুরোঃ গরু পাচার মামলায় বিস্ফোরক তথ্য। তদন্তে নেমে এবার নয়া তথ্য হাতে পেল সিবিআই। গতকাল আসানসোল আদালতে সিবিআইয়ের তরফে সিউড়ি সমবায় ব্যাঙ্ক থেকে পাওয়া ১৭৭ টি ভুয় অ্যাকাউন্টের তথ্য তুলে ধরা হয়েছিল। সেই সূত্র ধরেই নতুন তথ্য হাতে উঠে এল। যা শুনে চক্ষু চড়কগাছ তদন্তকারী সংস্থার।
আরও পড়ুনঃ Calcutta High Court: জঙ্গলের আইন চলতে পারে না, বদলি নিয়ে বিস্ফোরক বিচারপতি


গতকাল সিবিআইয়ের তরফে দাবি করা হয়েছে, একাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে কালো টাকা সাদা করা হয়েছিল। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে গ্রাহক সেই সমস্ত অ্যাকাউন্ট সম্পর্কে অবগত ছিলেন না। এমনই এক অ্যাকাউন্টের হদিশ মিলল বীরভূমের নানুরের কালিকাপুরে। পেশায় দর্জি প্রভাত দাস জানিয়েছেন, ২০২১ সালের শেষের দিকে, তাঁর বাড়িতে একটি ব্যাঙ্কের চেকবই আসে। পিয়ন এসে জানান, ব্যাঙ্কে তাঁর নতুন অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে। তারই চেকবুক।

ওই ব্যক্তি আরও জানিয়েছেন, তাঁর এক পরিচিত বেকার ভাতা টাকা দেওয়ার নাম করে তাঁর আধার কার্ড এবং ভোটার কার্ড নিয়ে যায়। এমনকি ব্যাঙ্কের চেকবই আসার পর ওই ব্যক্তি চেকবই নিয়ে যায় বলে অভিযোগ। সূত্রের খবর, এই অ্য়াকাউন্টের মাধ্যমেই লাখ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। পাশাপাশি, এও শোনা যাচ্ছে, ওই ব্যক্তি চালকলের সঙ্গে যুক্ত।
গতকাল আদালতের কাছে সিউড়ির সমবায় ব্যাঙ্ক থেকে পাওয়া ১৭৭ টি ভুয়ো অ্যাকাউন্ট তুলে ধরে সিবিআই। সেখানে কোটি কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে বলে জানা গেছে। এই ১৭৭ টি অ্যাকাউন্ট কীভাবে এল? কেন এর সঙ্গে অনুব্রত মণ্ডলের যোগ পাওয়া যাচ্ছে? প্রশ্ন করেন বিচারক। উত্তরে সিবিআই অফিসার বলেন, এই ১৭৭ টি অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা ঘুরপথে দুটি অ্যাকাউন্টে গেছে। যার সঙ্গে দুটি রাইস মিলে গেছে। ১৭৭ টি ভুয়ো অ্যাকাউন্টের সঙ্গে রয়েছে অনুব্রতর যোগ রয়েছে বলেই দাবি করছে সিবিআই।


গরু পাচার মামলায় বিস্ফোরক তথ্য, অনুব্রত মণ্ডলের যোগ মিলেছে

এরপরেই বিচারকের প্রশ্ন ছিল, একই ব্যক্তি বারবার ফর্মে সই করেছেন বলে দেখা যাচ্ছে। উত্তরে সিবিআই জানিয়েছে, ২০০ টি অ্যাকাউন্ট একই ব্যক্তি সই করেছেন। যাদের নামে সই করা হয়েছে, তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, পঞ্চায়েত অফিসে আধার কার্ড জমা করতেই তাঁদের নামের অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে।
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



