নজরবন্দি ব্যুরোঃ গত সপ্তাহে ময়নাগুড়ির দোমহনিতে ভয়াবহ রেল দুর্ঘটনায় ৯ জনের মৃত্যু হয়। সেই ঘটনায় উত্তর-পূর্ব রেলের তরফে যে রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছিল। তাতে উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য। সেই রিপোর্টে বলা হয়েছে, প্রতি মাসে ট্রেনের ইঞ্জিন পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষা না করেই চালানো হয়েছিল ট্রেন। কেন হয়নি পরীক্ষা? প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে কমিশনার অব রেলওয়ে সেফটি।
আরও পড়ুনঃ WHO জারি করল Alert, AIDS & HIV-এর মতই সারা জীবন থেকে যাবে করোনা ভাইরাস
১৩ তারিখের ভয়াবহ রেল দুর্ঘটনার একটি রিপোর্ট তৈরি করেছেন আলিপুরদুয়ার ডিভিশন। সেখানে দেখা যাচ্ছে আইসি হয়েছে ১১ নভেম্বর। আইএ বাকি রয়েছে চলতি বছরের ৯ জানুয়ারি থেকে। রেলের নিয়ম অনুযায়ী প্রতি মাসে আইএ পরীক্ষা করাতে হয়। প্রতি চার মাসে আইসি পরীক্ষা করাতে হয়। অর্থাৎ রুল বুক অনুযায়ী প্রতি মাসে ইঞ্জিনের যে পরীক্ষা করানোর কথা ছিল তা করানো হয়নি।
তবে অনেক আগে থেকেই ট্যাকশন মটোরের সমস্যা ছিল তা এখন পরিষ্কার। কিন্তু সেদিনের ভয়াবহ দুর্ঘটনার পিছনে আর কোনও কারণ রয়েছে কী না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এর আগে ইঞ্জিনের সমস্যার জেরেই কি দুর্ঘটনার কবলে পড়েছিল বিকানের এক্সপ্রেস? ইঙ্গিত দিয়েছিলেন রেলমন্ত্রী নিজে। এই দুর্ঘটনার কারণ খুজে বের করতে কমিশনার অফ রেলওয়ে সেফটি-র নেতৃত্বাধীন বিশেষ তদন্তকারী দল কাজ শুরু করেছে। এই আবহে দুর্ঘটনার তদন্তে নেমে ইঞ্জিনটিকে খতিয়ে দেখা হবে। আর তাই ইঞ্জিনটিকে আপাতত রাখা হয়েছে নিউ দোমহনি স্টেশনে। জলপাইগুড়ি রোড স্টেশন পার করার কিছউ পরে ট্রেনটি ৯৫ থেকে ১০০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টার গতিতে চলছিল।
পরীক্ষা না করেই চালানো হয়েছিল ট্রেন, রিপোর্ট প্রকাশ
সূত্রের খবর, ইঞ্জিনে যে সমস্যা রয়েছে, সেই ইঙ্গিত আগেই পেয়েছইলেন লোকো পাইলট। তিনি নাকি জলপাইগুড়ি রোড স্টেশনের স্টেশন মাস্টারকে সেই বিষয়ে জানিয়েছিলেন। ইঞ্জিনিয়ারিং সেকশনকে খবর দেওয়া হলেও অপেক্ষা না করে চালক ট্রেন নিয়ে কোচবিহারের উদ্দেশে রওনা দেন।
ইতিমধ্যেই ময়নাগুড়ি জিআরপিতে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। আহতদের পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, জোরে ব্রেক কষার জন্যই এই দুর্ঘটনা ঘটে যায়। ভারতীয় দন্ডবিধির ৩০৪, ২৭৯, ৩৩৭, ৩৩৮, ৪২৭ নম্বর ধারায় মামলা করা হয়েছে। এই আবহে ঘটনার উচ্চ পর্যায়ে তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।








