নজরবন্দি ব্যুরোঃ করোনা কালের নির্বাচন, পুরো এক মাসের ভোট উৎসব মিটেছে গত কাল। অপেক্ষা শুধু ফলাফলের। তবে তার জন্য বেশি দেরী করায়নি কমিশন। আগামী ২ তারিখ বাংলা সহ মোট ৫ রাজ্যের ফল প্রকাশ বিধানসভা নির্বাচনের। এমনিতেও দেশের এই চরম সংকটের সময়ে ভোট গ্রহণ নিয়ে এর আগে একাধিক জায়গায় মুখ পুড়েছে কমিশনের।
আরও পড়ুনঃ চিটফান্ড তদন্তে সক্রিয় ইডি, বাজেয়াপ্ত রোজভ্যালির ৩০৪ কোটির সম্পত্তি


মাদ্রাজ হাই কোর্ট থেকে একাধিক নেতা মন্ত্রী বাংলা সহ বাকি রাজ্যেও করোনার এই বাড়বাড়ন্তের জন্য কাঠগড়ায় তুলেছে দেশের নির্বাচন কমিশনকেই। গত এক মাসের বেশি সময় ধরে নির্বাচনী প্রচার, সভা মিছিলেই হুহু করে সংক্রমণ ছড়িয়েছে বলেই দাবী করেছিলেন প্রত্যেকেই। চাপের মুখে পড়ে শেষ লগ্নে এসে প্রচার জনসভা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিল কমিশন।
অন্যদিকে বাংলায় কমিশনের ওপর একাধিকবার পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলেছে রাজ্যের শাসক দল এবং খোদ তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দোপাধ্যায়। ্বারবার অভিযোগ করা হয়েছিল বাংলায় এসে বিজেপির হয়ে কাজ করছে কমিশন। সব মিলিয়ে ২ তারিখের গনণায় কোভিডের বিধি এবং নিরাপত্তার নিষেধ তৈরিতে মনোনিবেশ করেছে কমিশন। তৈরি করছে নিঁখুত ব্লু প্রিন্ট।
২১ এর বিধানসভা নির্বাচনে বাংলায় ভোট হয়েছে মোট ২৯৪ কেন্দ্রে। তার মধ্যে মুর্শিদাবাদের ২ কেন্দ্রে ভোট পরে হওয়ার কারণে গণ্না হবে মোট ২৯২ টি কেন্দ্রের। তার জন্য তৈরি থাকছে মোট ১০৮ গণনাকেন্দ্র। তবে সূত্রের খবর কোভিডের কারণেই বাড়ানো হয়েছে গণনা কেন্দ্র। ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে যা ছিল ৯০টি। এক একটি গণনা কেন্দ্রে একাধিক কেন্দ্রের গণনা হয়। আর কোন জেলায় কত গণনা কেন্দ্র থাকবে তা ঠিক করেন জেলা শাসক। যেমন কলকাতার ১১ টি কেন্দ্রের জন্য থাকছে মোট ২ টি গণনা কেন্দ্র। একটি হল নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়াম এবং অপরটি হলো রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস।


এছাড়া এই সংক্রমণের সময়ে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে গণ্নাকেন্দ্র এবং কক্ষ স্যানিটাইজ করা হবে, সমস্ত কর্মীদের কোভিড নেগেটিভ রিপোর্ট থাকলে তবেই তিনি কাজ করতে পারবেন, এবং মাস্ক, ফেস শিল্ড ও পর্যাপ্ত দূরত্ব বিধি মানা বাধ্যতামূলক করেছে কমিশন। কোভিড বিধির সতর্কীকরনের পাশাপাশি কমিশনের মাথায় থাকছে কড়া নিরাপত্তার কথা। এমনিতেও সুষ্ঠ নির্বাচন করানোর লক্ষ্যে এবার বাংলায় এসেছিল রেকর্ড সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনি। তার অন্যথা হবেনা গণনাতেও। সূত্রের খবর ১০৮টি গণনাকেন্দ্রের জন্য মোট ২৫৬ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করেছে কমিশন। গণনাকেন্দ্রে মূলত ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা বলয় থাকে।
ত্রিস্তরীয় বলয়ের একেবারে বাইরে থাকবে রাজ্য পুলিশের সশস্ত্র বাহিনী, র্যাফ ও কম্যান্ডো ও কুইক রেসপন্স টিমের সদস্যরা। এদের কাজ হল গণনাকেন্দ্রের বাইরে জমায়েত হতে না দেওয়া এবং যেকোন ধরণের অশান্তি হলে তা ঠেকানো। মাঝের বলয়ে থাকবেন পুলিশের ডিসি পদমর্যাদার উচ্চপদস্থ আধিকারিক এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী। একেবারে শেষ বা তৃতীয় বলয় যেখানে গণনা কক্ষ ও স্ট্রং রুম রয়েছে সেখানে থাকে কেবল শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় বাহিনী। কমিশনের অনুমতিপত্র ছাড়া সেখানে কেউ প্রবেশ করতে পারবে না। এমনকি রাজ্য পুলিশও নয়।
করোনা কালের নির্বাচন, গণনা কক্ষ বা কাউন্টিং হলে শুধুমাত্র প্রবেশ করতে পারবেন রিটার্নিং অফিসার, গণনা পর্যবেক্ষক, গণনা সহকর্মী, মাইক্রো অবজার্ভার, কাউন্টিং এজেন্ট, সংশ্লিষ্ট আসনের প্রার্থী ও এজেন্টরা। এ ছাড়া নিরাপত্তার জন্য গণনাকেন্দ্রের মধ্যে সিসিটিভি-তে নজরদারি চালাবে কমিশন। অশান্তি এড়াতে গণনাকেন্দ্রের ১০০ মিটার এলাকা জুড়ে থাকবে ১৪৪ ধারা। এমনিতেও করোনা কালের জন্য গণনা কেন্দ্রে প্রার্থী এবং এজেন্টদের প্রবেশ নিয়ে একাধিক নিয়মাবলী জারি করা হয়েছে কমিশনের পক্ষ থেকে।
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



