ভোটমুখী বাংলায় কেন্দ্রীয় তদন্ত আর রাজনীতির যোগসূত্র নিয়ে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিল X-এ পোস্টের সময়রেখা। আইপ্যাকের অফিস ও কর্ণধারের বাড়িতে ইডি হানার ব্যাখ্যা—যে বয়ান পরে ইডির অফিসিয়াল অ্যাকাউন্টে এল, তার আগেই একই ভাষা ও দাবিতে পোস্ট করেছিল বিজেপি। এই ‘টাইমিং গ্যাপ’কেই হাতিয়ার করে প্রশ্ন তুলল তৃণমূল কংগ্রেস—তবে কি ইডির বিবৃতি লেখা হয়েছিল বিজেপি দপ্তরেই?
তৃণমূলের দাবি অনুযায়ী, X-এ বিজেপির পোস্টের সময় ছিল দুপুর ২টা ৪৩ মিনিট। সেখানে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট-কে উদ্ধৃত করে বলা হয়—কয়লা পাচার মামলার সূত্রে মোট ১০টি জায়গায় তল্লাশি হয়েছে (বাংলায় ৬টি, দিল্লিতে ৪টি); কোনও রাজনৈতিক দলের অফিস তল্লাশির আওতায় নয়; কোনও নির্বাচনের সঙ্গে সম্পর্ক নেই; এটি আর্থিক বেনিয়ম সংক্রান্ত রুটিনমাফিক অভিযান এবং সমস্ত আইনি বিধি মেনেই হয়েছে। আরও বলা হয়, রাজনৈতিক ক্ষমতাবলে তদন্ত প্রভাবিত হলে তা জনবিশ্বাসে আঘাত করবে।



কিন্তু ওই একই বক্তব্য ইডির অফিসিয়াল X হ্যান্ডেলে আসে প্রায় আধঘণ্টা পরে—সময় দুপুর ৩টা ২০ মিনিট। দুই পোস্টের স্ক্রিনশট পাশাপাশি তুলে ধরে বঙ্গ বিজেপিকে ট্যাগ করে তৃণমূলের কটাক্ষ, “বিজেপি লিখল আগে, ইডি পরে পড়ল।” শাসক শিবিরের বক্তব্য, এই সময়গত অসঙ্গতিই প্রমাণ করে দিচ্ছে বিজেপি–ইডির আঁতাঁত।
আইপ্যাকের অফিস ও কর্ণধারের বাড়িতে ইডি হানাকে ঘিরে তৃণমূল আগেই রাজনৈতিক অভিসন্ধির অভিযোগ তুলেছে। তাদের দাবি, তল্লাশির নামে আদতে নথি হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। অতীতেও একাধিক মামলায় সিবিআই ও ইডির বিরুদ্ধে কেন্দ্রের অঙ্গুলিহেলনে কাজ করার অভিযোগ করেছে শাসক দল। যদিও গেরুয়া শিবির বারবার এই অভিযোগ খণ্ডন করেছে।
তবে X-এ পোস্টের এই ‘আগে–পরে’ বিতর্ক নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে—তদন্তের বয়ান কি রাজনৈতিক দপ্তরে তৈরি হচ্ছে? ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এই ঘটনার পর কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ও বিজেপির দূরত্ব নিয়ে সন্দেহ আরও জোরাল হল।









