কলকাতা: ED Raid in Nitai Dutta House নিয়ে নড়েচড়ে বসেছে রাজনৈতিক মহল। একসময় যিনি ছিলেন পেপার বয়, আজ তাঁর নামে অভিযোগ দুর্নীতির পাহাড়। মুর্শিদাবাদের ছাপোষা পরিবারের সন্তান নিতাই দত্ত সময়ের সঙ্গে সঙ্গে গড়ে তুলেছেন বিপুল সম্পত্তি ও রাজনৈতিক প্রতিপত্তি। শুক্রবার সকালে Enforcement Directorate (ED) পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় তাঁর বাড়ি ও একাধিক সম্পত্তিতে অভিযান চালায়।
শুধু কলকাতা নয়, মুর্শিদাবাদ থেকে শহর পর্যন্ত ছড়িয়ে রয়েছে তাঁর ‘সাম্রাজ্য’। একসময় কলেজ স্ট্রিটে বই-খাতা বিক্রি করতেন, আর আজ একাধিক বাড়ি, গোডাউন, রেস্তোরাঁর মালিক। এই অভাবনীয় উত্থানের আড়ালে লুকিয়ে রয়েছে পুর নিয়োগ দুর্নীতির ভয়াবহ কাহিনি — এমনই ইঙ্গিত তদন্তকারীদের।


শুক্রবার সকালেই ইডির একাধিক দল পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় মন্ত্রী সুজিত বসু ও নিতাই দত্তের বাড়িতে তল্লাশি চালায়। মোট ১০টি জায়গায় অভিযান হয়, যার মধ্যে একটি গোডাউনও রয়েছে। ইডি সূত্রে খবর, তল্লাশি চালানোর সময় গুরুত্বপূর্ণ নথি ও ডিজিটাল প্রমাণ হাতে আসে তদন্তকারীদের।

২০০৮ সালে কলকাতায় এসে বাড়ি বাড়ি খবরের কাগজ বিলি করতেন নিতাই। সেই সময়ই তিনি যোগ দেন তৃণমূল কংগ্রেসে ফুল-টাইম কর্মী হিসেবে। ধীরে ধীরে মন্ত্রী সুজিত বসুর ঘনিষ্ঠ সহচর হয়ে ওঠেন। সময়ের সঙ্গে এই সম্পর্কই হয়ে ওঠে তাঁর ক্ষমতার মূল উৎস। সুজিত বসুর ছায়ায় থেকেই তিনি রাজনৈতিক ও আর্থিকভাবে প্রভাবশালী হয়ে ওঠেন।
তদন্তকারীরা বলছেন, নিতাই দত্তের বিরুদ্ধে অভিযোগ, পুর নিয়োগ দুর্নীতির টাকা খাটিয়ে বিপুল সম্পত্তি তৈরি করেছেন তিনি। তাঁর নাম প্রথম উঠে আসে ব্যবসায়ী অয়ন শীল গ্রেফতারের পর। অয়নের অফিস থেকে পাওয়া নথির সূত্রেই তদন্ত এগোয় নিতাইয়ের দিকে।


দক্ষিণ দমদম পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান পদে আসীন হওয়ার পর তাঁর উত্থান নতুন মোড় নেয়। সেই সময়ই নানা অভিযোগের সূত্রে কেন্দ্রীয় সংস্থার নজরে আসেন তিনি। গত বছর তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ইডি সাত পাতার একটি গুরুত্বপূর্ণ নথি উদ্ধার করে।
ইডির দাবি, নিতাই দত্ত শুধু নিজের জন্য নয়, স্ত্রী ও ভাইকেও বেআইনি ভাবে চাকরি পাইয়ে দেন কামারহাটি পুরসভায়। তদন্তে দেখা যাচ্ছে, একাধিক পুরসভার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় তাঁর প্রভাব ছিল।
অনেকে বলছেন, মন্ত্রী সুজিত বসুর আপ্ত সহায়ক হওয়ায়ই তদন্তকারীরা সুজিতকে ‘আতসকাচে’ নিয়েছেন। যদিও তদন্তকারী সংস্থার দাবি ভিন্ন। যে সময়ের দুর্নীতির প্রমাণ মিলেছে, সেই সময় দক্ষিণ দমদম পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন সুজিত বসু। এই প্রেক্ষিতেই ED Raid in Nitai Dutta House মামলায় দুজনের সংযোগ নিয়ে তদন্ত তীব্র হচ্ছে।
রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন — এক সময়ের পেপার বয় কীভাবে এত দ্রুত এমন প্রভাবশালী হয়ে উঠলেন? কোন ক্ষমতার ছত্রছায়ায় গড়ে উঠল এই সাম্রাজ্য? ইডির অভিযান শুরু হওয়ায় এখন নিতাই দত্তের আর্থিক লেনদেন, সম্পত্তির উৎস এবং রাজনৈতিক সম্পর্ক সবই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তদন্তকারীদের মতে, এ অভিযান কেবল শুরু। পুর নিয়োগ দুর্নীতির জাল আরও অনেক দূর পর্যন্ত ছড়ানো বলে অনুমান। ফলে আগামী দিনে আরও বড় পদক্ষেপ হতে পারে ইডির।







