নজরবন্দি ব্যুরো: অনেক কাট কয়লা পুড়িয়ে অবশেষে বীরভূমের দাপুটে নেতাকে গ্রেফতার করেছিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। এরপর যেদিন তাঁকে কলকাতায় জোকার ইএসআই হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে তাঁর কনভয়ে শক্তিগড়ে থামে ব্রেকফাস্টের জন্য। আর ঠিক সেই সময় শক্তিগড়ে অনুব্রত মণ্ডলের ব্রেকফাস্ট টেবিলে তিনজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে দেখা যায়। আর তাঁদের মধ্যে প্রায় আধঘণ্টা কথা হয়। কাদের সঙ্গে কথা বলছিলেন বীরভূম তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি? এই প্রশ্নই চর্চায় উঠে এসেছে বারংবার।
আরও পড়ুন: TMC: ফের বিতর্কে তৃণমূল নেতা, হুমকি দিয়ে জমি দখলের অভিযোগ!


এবার সেই প্রসঙ্গে আদালতে বড়সড় তথ্য ফাঁস করল ইডি। জানা গিয়েছে, গরু পাচার মামলায় বৃহস্পতিবার দিল্লির রাউস অ্যাভিনিউ কোর্টে সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট পেশ করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। আর এদিন চার্জশিটে অনুব্রত মণ্ডলের পাশাপাশি কেষ্টর সুকন্যা মণ্ডলেরও নাম রয়েছে বলে জানা যায়। তাছাড়াও আরও একটি বিষয়ে ওই চার্জশিটে উল্লেখ্য করা হয়েছে, সেটি হল অনুব্রতর ‘শক্তিগড় মিটিং’! প্রথম থেকেই একটাই প্রশ্ন উঠে আসছিল! কে বা কাদের নির্দেশে ওই মিটিং হয়েছিল? কেনইবা ওই মিটিং?

এপ্রসঙ্গে ইডি আদালতে জানায়, অনুব্রত কন্যা সুকন্যার নির্দেশেই ওই মিটিং হয়েছিল। দিল্লি যাওয়ার সময় সুকন্যার নির্দেশেই শক্তিগড়ে অনুব্রতর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ঘনিষ্ঠ তুফান মৃধা এবং কৃপাময় ঘোষ। শুধু তাই নয়, ইডির কাছে অনুব্রত ঘনিষ্ঠ তুফান স্বীকার করে যে, আসানসোল জেলের এক জেলারের কাছ থেকে তিনি জানতে পেরেছিলেন, পুলিশের গাড়ি শক্তিগড়ে দাঁড়াবে। তাই সুকন্যার নির্দেশে তাঁরা সেখানে গিয়ে পুলিশি ঘেরাটোপের মধ্যেই অনুব্রতর সঙ্গে দেখা করেন।



ইডির দাবি, রাজ্য পুলিশ থাকা সত্ত্বেও জেলবন্দি অবস্থাতেও অনুব্রত এতটাই প্রভাবশালী, যে তিনি প্রশাসনকে প্রভাবিত করার ক্ষমতা রাখেন। শুধু তাই নয়, এদিন আদালতে ইডির পক্ষ থেকে রাজ্য পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। ইডির দাবি, ইডির জিজ্ঞাসাবাদ এড়াতে সর্বদাই অনুব্রত তদন্তে অসহযোগিতা করেছেন। এমনকি নিজের অ্যারেস্ট মেমো থেকে শুরু করে বিভিন্ন নথিতে অনুব্রত সই করতে অস্বীকার করেন বলেও জানায় ইডি।
সুকন্যার নির্দেশেই শক্তিগড়ে মিটিং অনুব্রতর, আদালতে আর কি কি বলল ইডি









