দ্বিতীয় দফার ভোটের মুখে আইনশৃঙ্খলা নিয়ে কোনও ঝুঁকি নিতে নারাজ নির্বাচন কমিশন। প্রথম দফায় রেকর্ড ভোটের পরই কড়া পদক্ষেপ—উত্তর ২৪ পরগনার হিঙ্গলগঞ্জ থানার ওসি সন্দীপ সরকারকে সাসপেন্ড করা হল। তাঁর বিরুদ্ধে দুষ্কৃতীদের সঙ্গে আঁতাঁত এবং রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্বের গুরুতর অভিযোগ ওঠায় এই সিদ্ধান্ত বলে জানিয়েছে কমিশন। শুক্রবার সকাল ১১টার মধ্যেই দায়িত্ব ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কমিশনের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, অনির্দিষ্টকালের জন্য সাসপেন্ড থাকবেন ওই অফিসার, যতক্ষণ না নতুন নির্দেশ জারি হচ্ছে। সূত্রের খবর, গত ২১ এপ্রিল তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগের বিস্তারিত রিপোর্ট জমা পড়ে। সেই রিপোর্ট খতিয়ে দেখেই ২৩ এপ্রিল গভীর রাতে পদক্ষেপ করে নির্বাচন কমিশন।


অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে—স্থানীয় অসাধু চক্রের সঙ্গে গোপন যোগাযোগ এবং ভোটের আবহে নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে ব্যর্থতা। কমিশনের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, অবিলম্বে পদ ছাড়তে হবে সন্দীপ সরকারকে এবং তাঁর অনুপস্থিতিতে দায়িত্ব সামলাতে সক্ষম অন্য এক আধিকারিকের নাম প্রস্তাব করতে হবে।
রাজ্যের রাজনৈতিক মানচিত্রে হিঙ্গলগঞ্জ এই মুহূর্তে অত্যন্ত স্পর্শকাতর কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত। দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে এখানে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা—একদিকে বিজেপি প্রার্থী রেখা পাত্র, অন্যদিকে তৃণমূলের ঝরণা সর্দার। সীমান্তঘেঁষা এলাকা হওয়ায় নিরাপত্তা নজরদারিও এখানে বাড়তি গুরুত্ব পাচ্ছে।
নির্বাচন কমিশনের এই পদক্ষেপ স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে—ভোটের আগে কোনওরকম পক্ষপাত বা অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না। দ্বিতীয় দফা যাতে নির্বিঘ্ন ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন হয়, তার জন্য প্রশাসনিক স্তরে আরও কড়াকড়ি বাড়ানো হচ্ছে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।










