দল গঠনের সময় থেকেই ইঙ্গিত মিলছিল, এই ইস্টবেঙ্গল আলাদা। আর টুর্নামেন্টের শেষ সন্ধ্যায় কাঠমান্ডুতে সেই ইঙ্গিতই বাস্তব হয়ে উঠল। ইস্টবেঙ্গল-এর মহিলা ফুটবল দল বিদেশের মাটিতে দাপুটে পারফরম্যান্সে জিতে নিল SAFF উইমেন্স ক্লাব চ্যাম্পিয়নশিপ। নেপালের শক্তিশালী APF ক্লাবকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে প্রথম সংস্করণেই ইতিহাস গড়ল লাল-হলুদ ব্রিগেড। এই সাফল্য শুধু একটি ট্রফি জয় নয়—এটি ভারতীয় মহিলা ক্লাব ফুটবলের জন্যও একটি মাইলফলক।
অপরাজেয় যাত্রার পরিণতি চ্যাম্পিয়নশিপে
টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ছিল ইস্টবেঙ্গল। লিগ পর্বে তিনটি ম্যাচে জয় ও একটিতে ড্র—একটিও হারেনি তারা। ফাইনালে উঠেও ছন্দ হারায়নি ফাজ়িলা ইকওয়াপুত, শিল্কি দেবীরা। বরং নেপালের দলকে আরও নিখুঁত ভাবে বিশ্লেষণ করে মাঠে নামে লাল-হলুদ।



লিগ পর্বের শেষ ম্যাচে APF ক্লাবের বিরুদ্ধে গোলশূন্য ড্র করেছিল ইস্টবেঙ্গল। সেই ম্যাচেই বিপক্ষের শক্তি ও দুর্বলতা বুঝে নেয় টিম ম্যানেজমেন্ট। ফাইনালে তারই নিখুঁত প্রয়োগ দেখা গেল।
ফাজ়িলার জোড়া গোল, শিল্কির নিখুঁত হেড
কাঠমান্ডুর দশরথ রঙ্গশালা স্টেডিয়ামে শুরুতে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হলেও ম্যাচের রাশ দ্রুত ইস্টবেঙ্গলের হাতে চলে আসে।
২১ মিনিটে প্রথম গোল করে দলকে এগিয়ে দেন ফাজ়িলা ইকওয়াপুত।
৩৫ মিনিটে ডান প্রান্ত থেকে আসা ক্রসে নিখুঁত হেডে ব্যবধান বাড়ান শিল্কি দেবী।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই কার্যত ম্যাচ শেষ করে দেন ফাজ়িলা। খেলা শুরুর এক মিনিটের মধ্যেই নিজের দ্বিতীয় গোলটি করে স্কোরলাইন ৩-০ করে দেন তিনি। এর পরেও একাধিক সুযোগ তৈরি হলেও আর গোলের সংখ্যা বাড়েনি।


গোলরক্ষকের দৃঢ়তা, রক্ষণভাগের শৃঙ্খলা
এই ট্রফি জয়ের নেপথ্যে শুধু আক্রমণ নয়, ছিল রক্ষণভাগের অসাধারণ সংযম। পুরো টুর্নামেন্টে একটিও গোল হজম করেনি ইস্টবেঙ্গল। ফাইনালেও গোলের নিচে পানথোই চানুর দৃঢ়তা ভাঙতে পারেনি APF ক্লাব।

রেকর্ডের ট্রফি, ক্লাব ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষর
এই জয়ের মাধ্যমে একাধিক নজির গড়ল ইস্টবেঙ্গল।
-
পুরো টুর্নামেন্টে অপরাজেয় চ্যাম্পিয়ন
-
একটিও গোল হজম না করে খেতাব জয়
-
৯ গোল করে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলস্কোরার ফাজ়িলা ইকওয়াপুত (সোনার বুট)
-
ভারতের প্রথম ফুটবল ক্লাব হিসেবে পুরুষ ও মহিলা—দুই বিভাগেই আন্তর্জাতিক ট্রফি জয়
এই ঐতিহাসিক সাফল্যে স্বাভাবিক ভাবেই উচ্ছ্বসিত লাল-হলুদ সমর্থকরা। মহিলা দলের এই জয় ভবিষ্যতে ভারতীয় ক্লাব ফুটবলে নতুন মানদণ্ড তৈরি করবে বলেই মনে করছেন ফুটবল বিশেষজ্ঞরা।







