২০২৫ সালের দুর্গাপূজো নিয়ে বাঙালির উৎসাহ এখন থেকেই তুঙ্গে। এবারে মহালয়ার মাধ্যমে শারদোৎসবের সূচনা হতে চলেছে ২১ সেপ্টেম্বর, রবিবার। প্রতি বছরের মতো এবারও বহু বাঙালি আগেভাগেই জানতে চান দুর্গাপূজো কবে পড়ছে। বিভিন্ন পুজো কমিটি, স্কুল-কলেজ, অফিস-আদালত—সকলেই সময়সূচি অনুযায়ী প্রস্তুতি শুরু করে দেন। সেই কারণেই এই বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালের দুর্গাপূজোর সময়সূচি আগেভাগেই জেনে রাখা অত্যন্ত প্রয়োজন।
বলা বাহুল্য, এই বছর দুর্গাপূজো পড়ছে সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে। মহালয়ার মাধ্যমে দেবীপক্ষের সূচনা হবে ২১ সেপ্টেম্বর। তারপর পঞ্চমী থেকে শুরু হবে মূল দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা।


২০২৫ সালে দুর্গাপূজোর নির্ভরযোগ্য সময়সূচি প্রকাশ, মহালয়া শুরু ২১ সেপ্টেম্বর

২০২৫ সালের দুর্গাপূজোর ইংরেজি ক্যালেন্ডার অনুযায়ী সময়সূচি:
মহালয়া: ২১ সেপ্টেম্বর, রবিবার
মহা পঞ্চমী: ২৭ সেপ্টেম্বর, শনিবার
ষষ্ঠী: ২৮ সেপ্টেম্বর, রবিবার
সপ্তমী: ২৯ সেপ্টেম্বর, সোমবার
অষ্টমী: ৩০ সেপ্টেম্বর, মঙ্গলবার
নবমী: ১ অক্টোবর, বুধবার
দশমী (বিজয়া দশমী): ২ অক্টোবর, বৃহস্পতিবার
এই সময়সূচি অনুসারে সপ্তমী, অষ্টমী ও নবমীর মতো গুরুত্বপূর্ণ দিনগুলি পড়ছে সপ্তাহের মাঝামাঝি সময়ে, ফলে অনেক স্কুল-কলেজ বা অফিসে পূজোর ছুটির সম্ভাবনাও বেশি। বিশেষ করে যারা আগে থেকেই ভ্রমণের পরিকল্পনা করে থাকেন, তাদের জন্য এই তথ্য অত্যন্ত উপযোগী।


বাংলা ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ২০২৫ সালের দুর্গাপূজোর তারিখ:
মহালয়া: আশ্বিন মাসের ৫ তারিখ, রবিবার
মহা পঞ্চমী: আশ্বিন মাসের ১১ তারিখ, শনিবার
ষষ্ঠী: আশ্বিন মাসের ১২ তারিখ, রবিবার
সপ্তমী: আশ্বিন মাসের ১৩ তারিখ, সোমবার
অষ্টমী: আশ্বিন মাসের ১৪ তারিখ, মঙ্গলবার
নবমী: আশ্বিন মাসের ১৫ তারিখ, বুধবার
দশমী (বিজয়া দশমী): আশ্বিন মাসের ১৬ তারিখ, বৃহস্পতিবার
বাংলা ক্যালেন্ডারের নিরিখে পূজোর দিনগুলির হিসেব মিলিয়ে অনেকেই ব্রত, নিয়ম বা পারিবারিক আচার পালন করেন। বিশেষ করে মহালয়া ও অষ্টমীর দিনে মহিলাদের অঞ্জলি দেওয়া, কুমারী পূজা বা সন্ধিপূজার আয়োজন ইত্যাদি বাংলা তারিখ অনুযায়ী নির্ধারিত হয়ে থাকে।
এই বছর অষ্টমী পড়ছে মঙ্গলবারে, যেটি বহু পরিবারে বিশেষ পুণ্যদিন হিসেবে বিবেচিত। নবমী এবং দশমী কর্মদিবসে পড়লেও ছুটির আবহ থাকবে গোটা রাজ্যে। আর বিজয়া দশমী অর্থাৎ ২ অক্টোবর জাতীয় ছুটি, ফলে বাঙালির শারদ উৎসব এবছর বেশ লম্বা ও আনন্দময় হয়ে উঠবে বলেই অনুমান।

২০২৫ সালের দুর্গাপূজো উপলক্ষে সামাজিক এবং অর্থনৈতিক প্রভাব:
শুধু ধর্মীয় নয়, দুর্গাপূজা বাঙালির সংস্কৃতির এক গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। প্রতিবছর এই সময়টায় রাজ্যের অর্থনীতি চাঙ্গা হয়ে ওঠে। বিপণি, পোশাক শিল্প, পুজো প্যান্ডেল নির্মাণ, আলোকসজ্জা, বিজ্ঞাপন এবং পর্যটন ক্ষেত্রে ব্যাপক কর্মসংস্থান হয়।
২০২৫ সালেও এর ব্যতিক্রম হবে না বলেই মনে করা হচ্ছে। পূজোর নির্ভরযোগ্য সময়সূচি সামনে আসতেই প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে বিভিন্ন পুজো কমিটি ও ব্যবসায়িক মহল।
২০২৫ সালের দুর্গাপূজো নিয়ে জনমানসে উত্তেজনা তুঙ্গে
আগামী বছরের পূজো একদিকে যেমন ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে ভরপুর থাকবে, অন্যদিকে তেমনই থাকছে পরিবার-পরিজন, বন্ধু-বান্ধবের সঙ্গে মিলেমিশে সময় কাটানোর অনন্য সুযোগ। স্কুলপড়ুয়া থেকে শুরু করে বৃদ্ধ-বৃদ্ধা—সকলেই অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন মা দুর্গার আগমনের।
এই সময়সূচি প্রতিটি বাঙালির জন্য জরুরি, কারণ পূজো মানে শুধু উপাসনা নয়, বরং এটি জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত এক আবেগের নাম।







