মহালয়ার (২১ সেপ্টেম্বর) মধ্য দিয়ে পিতৃপক্ষের অবসান ঘটেছে এবং শুরু হয়েছে দেবীপক্ষ। আর মাত্র কয়েক দিন, তারপরই বাঙালির সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গাপুজো ২০২৫ (Durga Puja 2025)। কলকাতা থেকে দেশ-বিদেশের বাঙালি সকলেই মেতে উঠবেন দেবী দুর্গার আরাধনায়। আবহাওয়া দফতর যদিও আগাম জানিয়ে দিয়েছে, পুজোর দিনগুলিতে বৃষ্টি হতে পারে। কিন্তু তাতেও বাঙালির উৎসবের আনন্দ থামবে না।
এই সময়ে সবচেয়ে বেশি খোঁজা হয় অনলাইনে—“দুর্গাপুজোয় কখন দেবেন অঞ্জলি”, “মহাষ্টমী কবে” বা “দেবী আসছেন কীসে, যাচ্ছেন কীসে”। সেই কৌতূহল মেটাতেই রইল এবারের শ্রীশ্রীশারদীয়া দুর্গাপূজার পূর্ণ সময়সূচি।


শ্রীশ্রীশারদীয়া দুর্গাপূজার নির্ঘণ্ট (১৪৩২ বঙ্গাব্দ):
পঞ্চমী – ১০ আশ্বিন, ২৭ সেপ্টেম্বর, শনিবার
ষষ্ঠী – ১১ আশ্বিন, ২৮ সেপ্টেম্বর, রবিবার
সপ্তমী – ১২ আশ্বিন, ২৯ সেপ্টেম্বর, সোমবার
অষ্টমী – ১৩ আশ্বিন, ৩০ সেপ্টেম্বর, মঙ্গলবার
নবমী – ১৪ আশ্বিন, ১ অক্টোবর, বুধবার
দশমী – ১৫ আশ্বিন, ২ অক্টোবর, বৃহস্পতিবার
পঞ্চমীর দিন সন্ধ্যায় হবে দেবীর বোধন। ষষ্ঠীতে সন্ধ্যাকালীন আমন্ত্রণ ও অধিবাস সম্পন্ন হবে। সপ্তমীতে নবপত্রিকা প্রবেশ ও স্থাপন হবে। এ বছর দেবী দুর্গার আগমন গজে, অর্থাৎ হাতিতে। শাস্ত্রমতে এর ফল শস্যপূর্ণা বসুন্ধরা—অর্থাৎ দেশের সর্বত্র শুভফল।
মহাষ্টমীর (৩০ সেপ্টেম্বর, মঙ্গলবার) বিশেষ সময়সূচি:
মহাষ্টমী শুরু দুপুর ১টা ২১ মিনিটে। দুপুর ১টা ৪৫ মিনিটে বলিদান। দুপুর ২টা ৯ মিনিটের মধ্যে শেষ হবে সন্ধিপুজো। অষ্টমীর অঞ্জলি এই সময়ের আগেই দিতে হবে।


১ অক্টোবর মহানবমীর পুজো। দেবীর নবরাত্রিক ব্রত সমাপন হবে এই দিনে।
২ অক্টোবর দশমী: শ্রীশ্রীশারদীয়া দুর্গাদেবীর দশমীবিহিত পূজা সমাপনান্তে বিসর্জ্জন প্রশস্তা হবে। দেবীর গমন দোলায় (পালকি/দোলায়)। শাস্ত্র মতে এর ফল মড়ক বা মহামারির আশঙ্কা।
তবে বাঙালির বিশ্বাস, দেবীর আগমন ও গমন শুধু প্রতীকী। এটি মানুষের মনের শুভাশুভ ভাবনার প্রতিফলন।
দুর্গাপুজো মানেই শুধু রীতি-রেওয়াজ নয়, আবেগ ও সংস্কৃতির অঙ্গ। তাই মহাষ্টমীর অঞ্জলি থেকে শুরু করে দশমীর বিসর্জন—প্রতিটি মুহূর্তের নির্দিষ্ট সময় জানলে পুজোর আনন্দ আরও বেড়ে যায়। দুর্গাপুজো ২০২৫-এর এই পূর্ণ নির্ঘণ্ট বাঙালির উৎসবের আনন্দকে আরও সমৃদ্ধ করবে।







