ভারতের চাপে নতিস্বীকার ঢাকার, দীপুচন্দ্র দাসের পরিবারের দায়িত্ব নিয়ে সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা বার্তা ইউনূস প্রশাসনের

দীপুচন্দ্র দাস হত্যায় আন্তর্জাতিক চাপের মুখে নিহতের পরিবারের দায়িত্ব নিল ইউনূস সরকার। সংখ্যালঘু সুরক্ষা নিয়েও বড় বার্তা ঢাকার।

বিজ্ঞাপন
নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

ময়মনসিংহের ভালুকায় হিন্দু যুবক দীপুচন্দ্র দাসের নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে প্রবল সমালোচনার মুখে পড়ে অবস্থান বদলাতে বাধ্য হল বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার। ভারত-সহ একাধিক দেশ ও মানবাধিকার সংগঠনের উদ্বেগের মধ্যেই নিহত দীপুচন্দ্র দাসের পরিবারের দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা করল মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন প্রশাসন।

মঙ্গলবার দীপুর গ্রামের বাড়িতে পৌঁছন বাংলাদেশের শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক সি আর আবরার। নিহতের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে তিনি স্পষ্ট জানান, দীপুচন্দ্র দাসের বাবা-মা, স্ত্রী ও নাবালক সন্তানের দেখভালের দায়িত্ব রাষ্ট্র নিয়েছে। আবরারের কথায়, “এই বিষয়ে এখানে আসার আগে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে আমার দেখা হয়েছে। তিনি আমাকে পরিবারের সঙ্গে কথা বলতে বলেছেন। তাঁদের কী কী প্রয়োজন, সব খতিয়ে দেখা হবে এবং তা পূরণ করা হবে।”

সরকারি বার্তার পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়াতেও অবস্থান স্পষ্ট করেছে ইউনূসের দপ্তর। এক্স (পূর্বতন টুইটার)-এ শেয়ার করা একটি পোস্টে জানানো হয়েছে, দীপুচন্দ্র দাসের মতো হিংসাত্মক ঘটনার কোনও জায়গা বাংলাদেশের সমাজে নেই। ওই বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তদন্ত চলছে।

সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়, সংখ্যালঘু সুরক্ষা নিয়ে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে ঢাকার অন্তর্বর্তী সরকার। ইউনূসের দপ্তরের তরফে জানানো হয়েছে, “ধর্ম, জাতি বা পরিচয় নির্বিশেষে বাংলাদেশের সব নাগরিকের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও সমানাধিকার রক্ষায় সরকার প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।” দীপুচন্দ্র দাসের মৃত্যুর পর এই বক্তব্যকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন কূটনৈতিক ও মানবাধিকার মহল।

উল্লেখ্য, গত ১৮ ডিসেম্বর রাতে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে দীপুচন্দ্র দাসকে গণপিটুনি দিয়ে খুন করা হয়। অভিযোগ, হত্যার পর তাঁর দেহ বিবস্ত্র করে গাছে ঝুলিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এই নির্মম ঘটনার ভিডিও ও বিবরণ ছড়িয়ে পড়তেই বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন ওঠে। ভারত সরকারও এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের কূটনৈতিক চাপ ও আন্তর্জাতিক সমালোচনার জেরেই দ্রুত পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে ইউনূস সরকার। যদিও পরিবারের দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণাকে ইতিবাচক বলেই মনে করছেন অনেকে, তবু ভবিষ্যতে সংখ্যালঘু সুরক্ষায় বাস্তব পদক্ষেপ কতটা কার্যকর হয়, সেদিকেই নজর থাকবে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

বিজ্ঞাপন

আরও খবর