বঙ্গের রাজনীতিতে বিতর্ক যেন নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে উঠেছে। এবার বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ তৃণমূলের বিরুদ্ধে কটাক্ষ করে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছেন। খড়গপুরের ছ’নম্বর ওয়ার্ডে রাস্তা উদ্বোধন ঘিরে শুরু হওয়া বিক্ষোভের জেরে দিলীপ ঘোষের বক্তব্য আরও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
দিলীপ ঘোষের মন্তব্যে নতুন বিতর্ক


বিজেপির প্রাক্তন সাংসদ দিলীপ ঘোষ তৃণমূলের মহিলা নেত্রীদের কটাক্ষ করে বলেন:“মহিলাদের লেলিয়ে দিয়ে ছ্যাঁচড়া রাজনীতি করছে তৃণমূল।” তিনি আরও বলেন: “আমি প্রথম দিনই বলেছি, বাড়ি থেকে টেনে বের করে এনে পিটব। এখনও দিলীপ ঘোষের দম আছে।”
এছাড়া, তিনি অভিযোগ করেন যে তৃণমূল মহিলা কর্মীদের ব্যবহার করে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার চেষ্টা করছে এবং তাদের ‘পার্টি অফিসে রাতভর ফূর্তি’ করার জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে বলে দাবি করেন।
খড়গপুরে বিক্ষোভ: কী হয়েছিল?


খড়গপুরের ভবানীপুর এলাকায় একটি রাস্তার উদ্বোধনে গিয়েছিলেন দিলীপ ঘোষ। তাঁকে দেখে একদল মহিলা বিক্ষোভ দেখান, যারা তাঁর মতে তৃণমূল কর্মী। বিক্ষোভকারীদের প্রশ্ন ছিল, তিনি বিধায়ক বা সাংসদ না হয়েও কেন রাস্তার উদ্বোধন করছেন? উত্তরে দিলীপ ঘোষ বলেন: “টাকা দিয়েছি, কারও বাপের টাকা নয়। ভিখারি পার্টি নয়, আমি টাকা দিয়ে বানিয়েছি।”
এই মন্তব্যের পর থেকেই তৃণমূল বনাম বিজেপির রাজনৈতিক টানাপোড়েন আরও বেড়ে যায়।
তৃণমূলের তীব্র প্রতিক্রিয়া
বিজেপি নেতার এই মন্তব্যের বিরুদ্ধে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তৃণমূল নেত্রীরা।
সাংসদ মালা রায় বলেন: “এটি অশালীন ভাষা, বিকৃত মানসিকতার পরিচয়।”
মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য কটাক্ষ করে বলেন: “মহিলাদের কুকুরের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। তৃণমূলের মহিলারা এর উপযুক্ত জবাব দেবেন।”
এই বিতর্ক আরও তীব্র হচ্ছে, বিশেষ করে মহিলা নেতাদের বিরুদ্ধে দিলীপ ঘোষের ভাষা ব্যবহার নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে।
রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ছে
দিলীপ ঘোষের এই বক্তব্য রাজনৈতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে। বিজেপির দাবি, তৃণমূল “রাজনৈতিক স্টান্ট” করতে মহিলাদের ব্যবহার করছে। তৃণমূলের বক্তব্য, বিজেপি নেতার এই ধরনের ভাষা “নারীবিদ্বেষী” এবং “অপমানজনক”। এই মন্তব্যের জেরে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
দিলীপ ঘোষের বক্তব্য ঘিরে তৃণমূল ও বিজেপির দ্বন্দ্ব আরও চরমে উঠেছে। পশ্চিমবঙ্গে আগামী নির্বাচনের আগে এই ধরনের রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে, বলে মনে করা হচ্ছে। এবার দেখার বিষয়, এই বিতর্ক রাজনৈতিক সমীকরণে কতটা প্রভাব ফেলে!







