নজরবন্দি ব্যুরোঃ জলমগ্ন তিলোত্তমা, তবে শুধু শহর কলকাতা নয় গত দুদিনের একটানা বৃষ্টিপাতে ভেসেছে কলকাতা সহ দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জায়গা। জলে ডুবে বাঁকুড়া-পুরুলিয়ার কিয়দংশ। তার মধ্যেই আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে আজ এবং আগামীকাল অর্থাৎ শুক্র-শনিও ভারী বৃষ্টিপাত হবে রাজ্যে, আগামী পরশু অর্থাৎ রবিবার থেকে স্বাভাবিক হতে পারে পরিস্থিতি।
আরও পড়ুনঃ লক্ষ্য পঞ্চায়েত নির্বাচন, বঙ্গ রাজনীতিতে আসছে কেজরিওয়ালের আপ!


একে বাংলায় ঢুকেই ঝোড়ো ব্যাটিং করছে বর্ষা, তাতে নিম্নচাপ কপালে ভাঁজ ফেলেছে রাজ্যবাসীর। প্রবল বৃষ্টির সম্ভাবনা বীরভূম-মুর্শিদাবাদ সহ উত্তরবঙ্গেও। প্রবল বর্ষায় উত্তরবঙ্গ সফর বাতিল করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে বর্ষা আর বন্যা নিয়ে এবার হাতিয়ার হিসেবে নিয়েছে বঙ্গ বিজেপি।
এই মুহুর্তে রাজ্যের বিরোধী দল বিজেপি। রাজ্যের একাধিক অবস্থান-পরিস্থিতিকে কটাক্ষ করে থাকে বিভিন্ন সময়ে। এবার এই প্রবল বর্ষা আর তাতে খোদ তিলোত্তমায় জল জমে যাওয়াকে হাতিয়ার করেছে টিম বঙ্গ বিজেপি। তবে শুধু জলমঙ্গ কলকাতার কথা নয়, এই টপিকে একসঙ্গে রাজ্যপাল নিয়ে রাজ্য সরকারের অবস্থান থেকে প্রাক্তন সেচমন্ত্রী নিয়ে কটাক্ষ সব নিয়েই মমতা সরকারকে দুষেছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ।
দিনে দিনে চাপান-উতোর বাড়ছে রাজ্য-রাজ্যপালের সম্পর্কের। রাজ্যপালের দিল্লি-গমন নিয়ে গতকাল মুখ্যমন্ত্রী ‘বাচ্চা ছেলে হলে বোঝানো যেত’ বলে কটাক্ষও করেছেন। তাছাড়া রাজ্য-রাজ্যপালের দ্বন্দ্ব লেগেই থাকে বাংলায়। অন্যদিকে ইয়াসের বিপর্যয়ের পর থেকেই মুখ্যমন্ত্রী সহ তৃণমূল সরকার উঠে পড়ে লেগেছে প্রাক্তন সেচমন্ত্রীর কাজ দেখতে। তিনি কী কাজ করেছেন, কী করেননি তা নিয়ে একাধিক বার তোপ দেগেছেন মুখ্যমন্ত্রী।


আর সেসবকে একত্রিত করে আজ বিজেপির রাজ্য সভাপতি বলেছেন, এসব আসলে ফাঁকি দেওয়া, নিজেরা কাজ না করে অন্যের খুঁত ধরছে তৃণমূল সরকার। দুদিনের বৃষ্টিতে কলকাতা সহ রাজ্যের একাধিক অঞ্চল ডুবে যাওয়ার প্রেক্ষিতে সকল বিষয় একযোগে দিলীপ বলেছেন, “যখন গত বছর আমফান এল, সাতদিন ধরে অন্ধকার ছিল। আজকে যারা রাজ্যপালের সমালোচনা করছেন, সেচমন্ত্রীর দোষ ধরছেন, তাঁরা ক্ষমতায় থাকাকালীন, মেয়র থাকাকালীন কাজ করতে পারেননি। কারণ, তাদের ইচ্ছাই নেই কাজ করার।’
সঙ্গে কটাক্ষ করেছেন করোনার ভ্যাকসিন প্রসঙ্গ নিয়েও। দিলীপ ঘোষের মতে “রাজ্যে ভ্যাকসিন আসছে, সাধারণ মানুষ হাহাকার করছে অথচ ভ্যাকসিন পাচ্ছেন না। শুধু রাজ্যপাল এবং বিরোধীদের আক্রমণ করে মানুষকে বোকা বানানোর চেষ্টা করছে।” তার সঙ্গেই তিনি বলেছেন,”আসলে যারা দশ বছরে পারে না তারা এক বছরে পারবে বলে কেউ বিশ্বাস করে না।”







