ভোটের মুখে রাজনীতির সুর চড়ছে বাংলায়। দীর্ঘদিন পর সংগঠনের ময়দানে চেনা আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে ফিরে এসে প্রকাশ্য জনসভা থেকেই মন্ত্রী হওয়ার ইচ্ছা জানালেন বঙ্গ বিজেপির ‘দাবাং’ নেতা দিলীপ ঘোষ। রানাঘাটের কুপার্স ক্যাম্পে পরিবর্তন সংকল্প সভায় তাঁর প্রশ্ন—“মন্ত্রী না হলে আপনাদের জন্য কাজ করব কীভাবে?”—নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে এনে দিল তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ।
পদ থাকা বা না-থাকা—নিজের কেরিয়ারে তা কখনও বড় বিষয় ছিল না, এমনটাই দাবি দিলীপের। দল প্রয়োজনমতো দায়িত্ব দিয়েছে, আবার কঠিন লড়াইয়েও নামিয়েছে। সেই চড়াই-উতরাই পেরিয়েই তিনি ফের সক্রিয়। রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য্য-র নেতৃত্বে সংগঠনে নতুন উদ্যমে মাঠে নেমেছেন দিলীপ। মঙ্গলবারই দীর্ঘ বিরতির পর বিজেপির হয়ে প্রথম জনসভায় যোগ দিয়ে স্পষ্ট জানালেন—দলের প্রয়োজনে যে কোনও ভূমিকায় তিনি প্রস্তুত।
সভা মঞ্চ থেকে দিলীপ ঘোষ বলেন, “গতবারও বাংলায় পরিবর্তনের চেষ্টা হয়েছিল। অর্ধেক পথে আটকে গিয়েছে। তাই গ্রামেগঞ্জে লড়াই শুরু করেছি, ঘরে ঘরে সভা হচ্ছে। পরিবর্তন তো হবেই—এটাই যুগের নিয়ম। তবে আমরা একটু তাড়াতাড়ি চাইছি।” এরপরই মন্ত্রী হওয়ার প্রসঙ্গে তাঁর সাফ কথা, “অনেকে বলছেন আমি মন্ত্রী হলে ভালো হয়। নিশ্চয়ই হব। না হলে গরিব মানুষের জীবনে পরিবর্তন আনব কীভাবে?”
আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। ২০২৬-এর লক্ষ্যে রোডম্যাপ এঁকে বঙ্গ বিজেপি নেতৃত্বকে টাস্ক দিয়ে গিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে যোগ্যতা প্রমাণের নির্দেশও দিয়েছেন তিনি। এই আবহেই জল্পনা—নিজের কেন্দ্র খড়্গপুরে ফের প্রার্থী হতে পারেন দিলীপ ঘোষ। সেই ইঙ্গিত তিনি নিজেই ছড়িয়ে দিয়েছেন।
এদিকে দলের অন্দরেও ভিন্ন সুর। বর্ধমান সংগঠনিক জেলা বিজেপির একাংশ সোশাল মিডিয়ায় দাবি তুলেছে—দুর্গাপুর পশ্চিম থেকে দিলীপ ঘোষকে প্রার্থী করা হোক। বর্ধমান–দুর্গাপুর লোকসভায় ২০২৪-এ পরাজয়ের যন্ত্রণা এখনও রয়েছে বলেই ওই পোস্টে উল্লেখ। দাবি, দিলীপ প্রার্থী হলে বিপুল ভোটে জয়ের সম্ভাবনা রয়েছে।
সব মিলিয়ে, মন্ত্রী হওয়ার প্রকাশ্য আকাঙ্ক্ষা, সম্ভাব্য প্রার্থী হওয়ার গুঞ্জন আর সংগঠনের মাঠে ফের সক্রিয় ভূমিকা—নির্বাচনের আগে দিলীপ ঘোষকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছেই।



