আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে জোর জল্পনা। মেদিনীপুর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছাপ্রকাশ করে বিজেপির সল্টলেক দফতরে বায়োডেটা জমা দিলেন রিঙ্কু মজুমদার, যিনি দিলীপ ঘোষ-এর স্ত্রী। সূত্রের দাবি, ৩১ জানুয়ারি সন্ধ্যায় দলীয় কার্যালয়ে গিয়ে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদনপত্র জমা দেন। উল্লেখযোগ্য, ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনে এই আসনে মাত্র ২০০০ ভোটে পিছিয়ে ছিল বিজেপি—ফলে মেদিনীপুরে লড়াই ঘিরে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে।
তিন আসনে লড়াইয়ের ইচ্ছা
দলীয় সূত্রে খবর, বায়োডেটায় রিঙ্কু মজুমদার তিনটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন—


-
মেদিনীপুর শহর
-
বিজপুর
-
নিউটাউন
তবে তাঁর প্রথম পছন্দ মেদিনীপুর বলেই জানা গিয়েছে। আবেদনপত্রে তিনি নিজেকে তৃণমূল স্তরের সক্রিয় সংগঠক এবং সামাজিকভাবে যুক্ত নেত্রী হিসেবে তুলে ধরেছেন। বিজেপির বিভিন্ন কর্মসূচিতে তাঁর ভূমিকা ও সংগঠনিক কাজের অভিজ্ঞতার কথাও বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
মেদিনীপুরে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ইঙ্গিত
২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে মেদিনীপুর বিধানসভা অংশে ফলাফল ছিল অত্যন্ত কাছাকাছি। বিজেপি প্রার্থী অগ্নিমিত্রা পাল পেয়েছিলেন ১,০৭,৭৫৬ ভোট। অন্যদিকে তৃণমূল প্রার্থী জুন মালিয়া পান ১,০৯,৯২৬ ভোট। ব্যবধান ছিল মাত্র প্রায় ২০০০। এই অল্প ব্যবধানই ইঙ্গিত দিচ্ছে, আগামী বিধানসভা নির্বাচনে মেদিনীপুর হতে পারে হাই-ভোল্টেজ কেন্দ্র।
শাসকবিরোধী প্রচারে বিজেপির জোর
এদিকে সংগঠনগতভাবে প্রচারও জোরদার করছে বিজেপি। আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের ঘটনা থেকে শুরু করে অনুপ্রবেশ ইস্যু—বিভিন্ন বিষয়কে সামনে রেখে সোশ্যাল মিডিয়ায় তথ্যচিত্র প্রকাশ করছে দল। শুধু ডিজিটাল প্রচারেই নয়, লিফলেট ও বই প্রকাশের মাধ্যমেও শাসকবিরোধী বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।
‘আধারের কথকথা’ নামে একটি বই ইতিমধ্যে বাংলা ও ইংরেজি—দুই ভাষায় প্রকাশ করেছে বঙ্গ বিজেপি। দলীয় নেতাদের মতে, এটি সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও ইস্যু নিয়ে তাদের অবস্থান তুলে ধরার একটি প্রচেষ্টা।
রাজনৈতিক বার্তা স্পষ্ট?
দলীয় টিকিট এখনও চূড়ান্ত না হলেও রিঙ্কু মজুমদারের এই পদক্ষেপ স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে—মেদিনীপুরে লড়াইয়ের ময়দানে নামার জন্য প্রস্তুত বিজেপি। অল্প ব্যবধানে হারার অভিজ্ঞতা এবার কি পাল্টাবে ফলাফল? উত্তর দেবে সময়ই।









