নজরবন্দি ব্যুরোঃ বাম আমলে রাজনৈতিক উত্থান হয়েছিল রাজু ঝাঁর। এরপর ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপির যোগদান করেন প্রাক্তন রাজ্য বিজেপির সভাপতি দিলীপ ঘোষের হাত ধরে। এরপর শনিবার রাজু ঝাঁ খুন হতেই রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় শুরু হয়েছে। বিজেপির সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি দিলীপ ঘোষের মন্তব্য, ৩ তারিখ রাজুকে তলব করেছিল ইডি। তার আগে মুখ বন্ধ করে দেওয়ার জন্যেই খুন করা হয়েছে রাজুকে। এর পিছনে বড় চক্রান্ত রয়েছে বলে দাবি করছেন তিনি।
আরও পড়ুনঃ Dev vs Hiran: গোয়েন্দাদের কাছে এত তথ্য নেই, যা হীরণের কাছে আছে, এবার বিস্ফোরক দেব


দিলীপ ঘোষের কথায়, গরু, বালি, কয়লা, পাথর পাচার থেকে শুরু করে সরকারি দফতরেও দুর্নীতি ঢুকে পড়েছে। কোটি কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে। বহু লোক এর সঙ্গে যুক্ত। সমাজের অরপাধীকরণ হয়ে গিয়েছে। বড় বড় অপরাধীরা এতে যুক্ত রয়েছে। যে সব কেসের তদন্ত চলছে তার সঙ্গে এই হত্যাকাণ্ডের যোগ রয়েছে। রাজু ঝাঁড় খুনের ঘটনায় দিলীপ ঘোষের বক্তব্য, আসলে রাজু ঝাঁ কয়লা কান্ড সম্পর্কে অনেক কিছু জানতেন। তাই তাঁর মুখবন্ধ করার জন্যেই খুন করে দেওয়া হয়েছে। যেভাবে খুন করা হয়েছে, তাতে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

পুলিশ সূত্রে খবর, গরু পাচারে অন্যতম অভিযুক্ত এনামুল ঘনিষ্ঠ আব্দুল লতিফের সাদা বিলাসবহুল ফরচুনা গাড়িতে যাচ্ছিলেন কয়লা মাফিয়া রাজু। মাঝপথে তার পথ আটকায় একটা নীল গাড়ি। জানা যাচ্ছে, ওই নীল গাড়িতেই ছিল আততায়ীরা। বারবার নম্বর বদলের পাশাপাশি রুট বদল করেন আততায়ীরা। জাতীয় সড়কের ধারে শক্তিগড় রেল স্টেশনের কাছাকাছি জায়গায় গাড়ি দাঁড় করিয়ে চলে যায়।
মুখ বন্ধ করে দেওয়ার জন্যেই খুন করা হয়েছে রাজুকে, বিস্ফোরক মন্তব্য দিলীপের

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের তরফে জানানো হয়েছে, শনিবার সন্ধ্যে সাড়ে ৭ টা নাগাদ একটি সাদা ফরচুনার শক্তিগড়ে এক নামী ল্যাংচার দোকানের সামনে এসে দাঁড়ায়। সেই গাড়িতেই সামনের সিটে বসেছিলেন রাজু। হঠাৎই পাশে এসে দাঁড়ায় একটি নীল রঙের ব্যালেনো। কিছু বুঝে ওঠার আগেই পরপর গুলি চালানো হয় রাজুকে লক্ষ্য করে। একেবারে ঝাঁঝরা করে দেওয়া হয় তাঁর শরীর। হাতে গুলি লেগে আহত হন তাঁর সঙ্গী ব্রতীন মুখোপাধ্যায়ও। এরপর রাতেই গুলিবিদ্ধ ব্রতীন মুখোপাধ্যায়কে বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। রবিবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য রাজু ঝাঁর দেহ নিয়ে আসা হয়েছে।









