রাজ্যে বিজেপির ভরাডুবি নিয়ে গোয়েন্দা রিপোর্ট, ব্যর্থতার দায় কি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের?

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নজরবন্দি ব্যুরোঃ রাজ্যে বিজেপির ভরাডুবি নিয়ে গোয়েন্দা রিপোর্ট, ব্যর্থতার দায় কি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের? রাজ্যে নির্বাচনী প্রচারে একের পর এক জনসভা থেকে দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঘোষণা করেছিলেন ২০০ এর বেশী আসন পেয়ে রাজ্যে ক্ষমতায় আসতে চলেছে বিজেপি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও সেইসময় কলাকাতা দিল্লীর প্রতিদিনের যাত্রী হয়ে উঠেছিলেন। বিজেপির একগুচ্ছ কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব, অন্য রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী থেকে শুরু করে অন্যান্য মন্ত্রীরা নির্বাচনী প্রচারে বাদ ছিলেন না কেউই। তবুও রথযাত্রা থেমে গিয়েছে অনেক আগেই।

আরও পড়ুনঃ আলাপন-সংবাদ! মুখ্যসচিবের দিল্লি-ডাক নিয়ে বেলা ৩টেয় সিদ্ধান্ত জানাবেন মমতা

২০০ কেন ১০০ আসনও পার করতে পারেনি বিজেপি। খেলা জিতে বেরিয়ে গেছে ঘাসফুল শিবির। মাত্র ৭৭ আসনেই থেমে গেছে বিজয়রথ। কিন্তু কেন এমন ভরাডুবি? কারণ খুঁজতে তরিঘরি গোয়ান্দা রিপোর্টের নির্দেশ দিয়েছেন ক্ষুব্ধ অমিত শাহ। সেই রিপোর্টেরই কিছু অংশ বাইরে এসেছে। যাতে দেখা গেছে হারের বেশ কিছুটা দায় বর্তেছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের উপরেই। হারের কারণ হিসেবে উঠে আসছে নানা দিক। প্রায় ২৮০ পাতার এই বিস্তারিত রিপোর্ট। তবে, এই বিষয় মুখ খুলতে নারাজ বিজেপি রাজ্য নেতারা। প্রথমত দেখা গেছে এবারে তৃণমূলের জয়ের পেছনে বিশাল ফ্যাক্টর করেছে মহিলা ভোট। রাজ্যের মহিলারা ঢেলে নিজেদের মেয়ে মমতাকেই ভোট দিয়েছে। কারণ বিজেপির মমতাকে করা ব্যক্তিগত আক্রমন ভালভাবে নেয়নি তারা। দ্বিতীয়ত বাংলার জেলায় জেলায় নির্বাচনী প্রচারে অবাঙালি অর্থাত্‍ মূলত হিন্দিভাষী নেতৃত্বের বক্তৃতা অনেকেই বুঝতে পারেননি। বিশেষত গ্রামীণ এলাকার মহিলারা একেবারেই বুঝতে পারেননি, কি বলতে চাইছে বিজেপি।

বারবার কেন্দ্রীয় ও অন্যান্য রাজ্যের নেতৃত্বের আগমন গুরুত্ব কমিয়েছে রাজ্য বিজেপির। মিঠুনের মত মহাতারকাকে দেখতে মাঠে লোক এসেছে তবে ভোটব্যাঙ্কে সমর্থন আসেনি। এছাড়াও ঘন ঘন ‘জয় শ্রী রাম’ ধ্বনিতে আদপে বিরক্তই হয়েছে রাজ্যবাসী। রামের থেকে রাজ্যে দুর্গা, কালীর ভক্ত অনেক বেশী। সেই পালসই ধরতে পারেনি বিজেপি। এছাড়া দলবদল করে আসা দুর্নীতিগ্রস্ত নেতাদের দলে নেওয়া মানুষ থেকে দলের বড় অংশ ভালভাবে নেয়নি। ব্যুমেরাং হয়ে ফিরে এসেছে কৌশল। বিজেপির নেতাদের কিছু ক্ষেত্রে উগ্র সাম্প্রদায়িক বক্তব্য এবং আস্ফালন দেখে সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ক শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের দিকে ঘুরে গিয়েছে। নির্বাচনী তহবিলের টাকা ঠিকভাবে খরচ করা হয়েছে কিনা সেই প্রশ্নও উঠেছে রিপোর্টে। এছাড়া, জেলাস্তরের কিছু বিজেপি নেতার হঠাত্‍ করেই বিলাসবহুল জীবনযাত্রা নজর কেড়েছে।

রাজ্যে বিজেপির ভরাডুবি নিয়ে গোয়েন্দা রিপোর্ট, ব্যর্থতার দায় কি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের? এর ফলে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বিধানসভা নির্বাচনে। একইসঙ্গে ওই রিপোর্টে শুভেন্দু অধিকারী ও মুকুল রায়  সহ প্রায় ৩০ জনের বিরুদ্ধে নৈতিক জীবন যাত্রা নিয়েও বিভিন্ন অভিযোগ তোলা হয়েছে বলেও জানা গিয়েছে।এছাড়া, রিপোর্টে আশঙ্কা করা হয়েছে, বিজেপির বর্তমানে যে কজন বিধায়ক আছেন তাঁদের মধ্যে অনেকেই শাসক দলের সঙ্গে চলে যেতে পারেন। এখনও এই রিপোর্ট নিয়ে কোন প্রতিক্রিয়া মেলেনি বিজেপির।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

সদ্য প্রকাশিত

এই ক্যাটেগরির আরও খবর